বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র জেলেদের চাল ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা ওই চেয়ারম্যানের শাস্তি দাবি করেছেন।
পাশাপাশি ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হলেন- মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপান।
মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৯৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পাশাপাশি চাল বিতরণের আগে ইউপি চেয়ারম্যান গুদাম থেকে চাল পরিবহনের নাম করে প্রতি জেলের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে ১৬ মাসে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাজিরপুর ইউনিয়নের জেলে জাবুল হোসেন জানান, ইউনিয়নে ৩০৯ জন কার্ডধারী জেলে রয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপান বিগত ৪ বছরের ৪৮ মাসের মধ্যে মাত্র ১৬ মাসের চাল বিতরণ করে বাকি ৩২ মাসের প্রায় ৩৯৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করেছেন।
এছাড়া চাল বিতরণের আগে ইউপি চেয়ারম্যান গুদাম থেকে চাল পরিবহনের নাম করে প্রতি জেলের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে ১৬ মাসে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। চাল কম দেওয়া এবং টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই চেয়ারম্যান তাদের বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্থ করেন এবং কার্ড বাতিলের হুমকি দেন।
চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলেদের পক্ষে আলী আজম, কবির সিকদার, মকবুল, মোশারেফসহ আট জেলে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শুভ্রা দাস জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপান জেলেদের চাল এবং টাকা অত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, নিয়ম মেনেই জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
নাজিরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান শরীফ জানান, আমার ১নং ও ২নং ওয়ার্ডের জনগন যখনই জাপান চেয়ারম্যানের কাছে সার্টিফিকেট কিংবা বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য গেলে অপমান অপদস্থ করতেন। কারন ছিল তারা আমার রামারপোল গ্রামের। সব সময়ই তারা সরকারি সকল সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হতেন।
অনেক অস্বচ্ছল লোক আছে যাদের নুন আনতে পানতা ফুরায় তাদেরও কখনো সহযোগিতা দেননি। তারা সহযোগিতার জন্য গেলে আমার কথা বলতেন তার থেকে নেও। এরকম কম হলেও একশত লোক হবে আমাকে অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও আমার ১নং ওয়ার্ড রামাপোলের ছয় জন জেলে কে চার বছর ধরে কোন চাল দিচ্ছেন না।
তবে অনেক অনুরোধ করার পর একবার চাল দিয়েছিল। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজি দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও মাত্র ১৬ কেজি চাল দিয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যানের প্রতি সাধারণ জনগনের এ রকম হাজারও অভিযোগ রয়েছে।
নাজিরপুর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপানের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র জেলেদের চাল ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বর্তমানে করোনাভাইরাস শহর থেকে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্রদের ত্রাণের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপানের বিরুদ্ধে। ত্রাণ না দিয়ে তিনি তা আত্মসাৎ করছেন।

