আগামী বছরেও দেশের সবাই ভ্যাকসিন পাবে না!


শীঘ্রই আসছে করোনার ভ্যাকসিন


করোনার টিকা বাজারে এলেও বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে একসঙ্গে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না। সরকার তা কিনে আনতেও পারবে না। প্রথম ধাপে দেশের পাঁচ শতাংশ মানুষ টিকা পেতে পারে। সে অনুযায়ী ২০২১ সাল শেষ হলেও দেশের সব মানুষ টিকা পাবে না।

এমন তথ্য জানান বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী।

বিএমএ মহাসচিব বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত ১৪১টি টিকা (ভ্যাকসিন) তৈরির কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে ২৫টি টিকা মানুষের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে। মাত্র ছয়টি টিকা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তৃতীয় ধাপে আছে। সেগুলোর গবেষণা কবে নাগাদ শেষ হবে বলা যাচ্ছে না। টিকা যদি ডিসেম্বরে বের হয়ে যায়, তা হলেও আমাদের দেশে আসতে আসতে জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারি লেগে যাবে। তাও সবাই প্রথম ধাপে পাবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। আমরা যখন পিক টাইমে ছিলাম, তিন মাস আগেও মৃত্যুর সংখ্যা আরও কম ছিল। তাহলে বলতে হয় আমাদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।মিডিয়া এসে সংবাদ সম্মেলন করে ১৬ কোটি মানুষকে জানাতে হবে, সাইন্টিফিকভাবে ডাটা উপস্থাপন করতে হবে এবং সঠিকভাবে বলতে হবে, আমরা কখন পিকে ছিলাম, আমরা এখন কোন অবস্থানে আছি, কিংবা আমরা নিচের দিকে নামছি অথবা আমরা ওপরের দিকে উঠছি।

ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, বইপত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে সেকেন্ড ওয়েভ বলতে কোনো শব্দ নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমাদের ঈদের আগে একটা পর্যায়ে ছিল। তখন অনেক মানুষ শহর থেকে গ্রামে গেছেন। ট্রেনে, বাসে চড়েছেন, বাজারে গেছেন, ঈদের কোলাকুলি করেছেন। ঈদের পরে কিংবা পরবর্তী সময়ে এর একটা ইফেক্ট হতে পরে। এটাকে সেকেন্ড ওয়েভ কিংবা থার্ড ওয়েভ বলা যেতে পারে।

বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ের বিভিন্ন গবেষণা সম্পর্কে মন্তব্য করে বিএমএ মহাসচিব বলেন, এই গবেষণার দিয়ে, এই অল্প সংখ্যক মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে যদি মনে করে করোনা কমে গেছে, করোনা আটকে ফেলবেন, করোনা চলে গেছে, তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। করোনাকে এত অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ৬৪ জেলার ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষের তথ্য নিয়ে যদি গবেষণা করা যেত, তাহলে বোঝা যেত বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা। ঢাকা শহরের দুই থেকে চার হাজার মানুষের নমুনা নিয়ে স্টাডি করলে সেটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঢাকা জেলার জনসংখ্যা যেখানে দুই কোটি, সেখানে অন্তত দুই লাখ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে স্টাডি করলে প্রকৃত তথ্য উঠে আসত।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রকোপ কমেছে। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করতেই তিনি বলেন, ঢাকা, গত তিন মাসের তথ্য উপস্থাপন করে যদি তারা এ কথা বলতেন, তাহলে মানুষ হয়তো তা বিশ্বাস করতো।