গর্ভাবস্থায় চকোলেট উপকারী না ক্ষতিকর, কী বলছে গবেষণা!



প্রতিটা মেয়েই পূর্ণতা পায় মাতৃত্বে। একজন মা বর্ণনাতীত কষ্টের মাধ্যমে সন্তান কে নিজের মধ্যে তিলে তিলে বড় করতে করতে পৃথিবীর আলো দেখায়। তাইতো বলা হয়, মায়ের পায়ের নীচেই সন্তানের বেহেশত।

তবে হবু মায়েদের খাবার নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক থাকতে হয়। কোনটা খাওয়া উপকারী আর কোনটা নয়, তাই নিয়ে থাকে বিস্তর চিন্তা। কারণ তখন নিজের পাশাপাশি অনাগত সন্তানের দিকটাও ভাবতে হয়। তাইতো অনেক হবু মাকেই তার পছন্দের খাবারটি ছাড়তে হয় এই সময়ে। চকোলেট কার না প্রিয়! গর্ভাবস্থায় কি চকোলেটও ছাড়তে হবে? এই সময়ে চকোলেট খাওয়া উপকারী নাকি ক্ষতিকর?

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে গর্ভাবস্থায় চকোলেট খেলে উপকারই হয়। ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা প্রায় ১২৯ জন নারীর উপর এই গবেষণা করা হয়। তাদের দুটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। একদলকে প্রতিদিন কম পরিমাণ ফ্ল্যাভানল যুক্ত চকোলেট ৩০ গ্রাম করে খেতে দেওয়া হয়েছিল। অন্য দলটিকে বেশি পরিমাণ ফ্ল্যাভানল যুক্ত চকোলেট প্রতিদিন ৩০ গ্রাম করে দেওয়া হয়েছিল।

টানা ১২ সপ্তাহ তাদের প্রতিদিন এই পরিমাণে চকোলেট খেতে বলা হয়েছিল। তবে গবেষণা শুরুর আগে এবং পরে তাদের প্রত্যেকের প্রি-এক্ল্যাম্পশিয়া এবং জেস্টেশনাল হাইপারটেনশন পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল। ১২ সপ্তাহ শেষে তাদের সঙ্গে অন্য গর্ভবতী নারীদের তুলনা করে দেখা যায়, যারা নিয়মিত চকোলেট খেয়েছেন, তাদের রক্ত চলাচল অন্যদের চেয়ে ভালো।

চকোলেটের আরও বেশ কিছু ভালো প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। যারা নিয়মিত ৩০ গ্রাম চকোলেট খেয়েছিলেন তাদের প্ল্যাসেন্টা এবং ভ্রুণের গ্রোথ অন্যদের তুলনায় বেশি হয়েছে।

তবে অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন কোনো বিশেষ খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবার শারীরিক গঠন সমান হয় না। তাই কার জন্যে কোন খাবার ভালো, তা একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকই ঠিক করে দিতে পারেন।
কারণ এই সময় শুধু মা নয়, বাচ্চার গ্রোথের কথাও মাথায় রাখতে হবে।