আজ রোববার (৩১ মে) বিশ্ব তামাক বর্জন দিবস। তামাক ব্যবহারে ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রায় ৭১ শতাংশই হয় তামাক সেবনের জন্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীতে তামাক সেবনের ফলে প্রায় ৮ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে যারা নিজেরাই ধূমপান করতেন শুধু তারাই নন, প্যাসিভ স্মোকিংয়ের জেরেও মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১.২ মিলিয়ন মানুষের।
তামাককে এককথায় বলা যায় বিষ, যা ধীরে ধীরে আপনাকে শেষ করে দেয়। সামান্য ও সাময়িক স্বস্তির জন্য মানুষ যেভাবে ধূমপান ও তামাক সেবন করেন তা ভিতর থেকে শরীরের ক্ষয় করে এবং আচমকাই একদিন বোমা বিস্ফোরণের মতো সামনে চলে আসে।
ধূমপানের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ফুসফুসের। কলকাতা শহরের জনপ্রিয় সি কে বিড়লা হাসপাতাল, সিএমআরআই-এর চিকিৎসক রঞ্জন দাস এ নিয়ে তাঁর পরামর্শ দিয়েছেন।
বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের কালবেলায় আমাদের শরীরে ইমিউনিটি বাড়িয়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। ধূমপান সরাসরি শরীরের ক্ষতি করে এবং গোটা শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রণালীকে শেষ করে দেয়।
লকডাউনে মানুষের ধূমপানের প্রবণতা বেড়েছে। অনেকেই ভাবছেন হয়তো যে লকডাউন উঠে গেলে আবার ছেড়ে দেব বা কমিয়ে ফেলব। কিন্তু তা কিন্তু হয় না। শরীরের যা ক্ষতি তা হয়েই চলেছে। এতে জীবন একেবারে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’
সি কে বিড়লা হাসপাতাল, সিএমআরআই-এর আরেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অঞ্জন সিওটিয়ার মতে, ‘ধূমপানের ফলে হার্টেরও ভীষণ ক্ষতি হয়। এর ফলে হার্ট রেট ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। ফলে ব্লকেজ দেখা দেয়।
অনেক সময় হার্টে রক্তচলাচল বন্ধ হওয়া এবং রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মতো ঘটনার জন্যও ধূমপান দায়ী। সে কারণে ধূমপান কোনও ভাবেই করা যাবে না। এই অভ্যাস পরিত্যাগ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।’
ধূমপান শুধু যে ফুসফুস, হৃদযন্ত্র বা শ্বাসনালীরই ক্ষতি করে তাই নয়, তা নষ্ট করে দিতে পারে দৃষ্টিশক্তিও। ড্রাই আই-এর মতো অতি পরিচিত চোখের সমস্যা থেকে গ্লকোমা, চোখের বয়সজনিত মাসকুলার ডিসট্রফি- কী নেই সে তালিকায়।
তাই ভয়াবহ ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আগে বুদ্ধিমানের মতো ধূমপান পরিত্যাগ করুন। কোনওরকম পান-বিড়ি-গুটকা খাওয়াও একেবারে ছেড়ে দিন। ভালো খাবার খান, নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, জীবনটাকে উপভোগ করে বাঁচুন। উপভোগ করার অর্থ কখনওই নেশা করা হতে পারে না।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

