উপসর্গ থাকলে পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ আরটিপিসিআরে অনেক ক্ষেত্রে ফলস নেগেটিভ আসতে পারে। তবে আরটিপিসিআরে ফলস পজিটিভ আসে না।
অন্যদিকে অ্যান্টিবডি টেস্টে ফলস নেগেটিভ-পজিটিভ দুটিই আসতে পারে। এ জন্য অ্যান্টিবডি টেস্ট নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আগ্রহ এবং উদ্বেগ দুটিই রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো পরীক্ষায় ফলস রেজাল্টের প্রশ্ন তখনই আসে, যখন ওই পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ, সংগ্রহের পর নমুনা পরিবহন এবং ল্যাবে পরীক্ষাপ্রক্রিয়ায় কোনো না কোনো ত্রুটি থাকে। কোনো ধরনের ত্রুটি না হলে আরটিপিসিআর কিংবা অন্য পদ্ধতিতে ফলস রেজাল্টের প্রশ্ন থাকে না।’
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ল্যাবরেটরি টেস্টে যেকোনো হারে, যেকোনো কারণে ভুল রিপোর্ট আসতে পারে। তাই যাদের উপসর্গ থাকবে তাদের রিপোর্টের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ধরনের মহামারির সময় এটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তি করোনামুক্ত বা ল্যাব টেস্টে নেগেটিভ হয়, আর এই সময়টায় যদি উপসর্গ থেকে যায়, তখন উপসর্গের চিকিৎসাটাই জরুরি। কারণ, করোনার কারণে ওই উপসর্গ গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।’
চীন থেকে আগত বিশেষজ্ঞরাও উপসর্গকে অগ্রাধিকার দিয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌস বলেন, ‘যাদের উপসর্গ থাকবে তাদের আগে পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরীক্ষা হোক বা না হোক, উপসর্গ থাকলে অবশ্যই আইসোলেশনে থাকতে হবে। মৃদু উপসর্গ হলে বাসায়, মাত্রা বেশি হলে হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকরা তখন প্রয়োজন অনুসারে পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন।’

