কমবেশি সবাইকে মাথা ব্যথার বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। অনেকের তো একবার মাথা ব্যথা শুরু হলে সহজে তাকে আর ছাড়তেই চায়না।
মাথা ব্যথা শুরু হলে কোনো কাজ করাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। ঔষুধ খেয়ে মাথা ব্যথা কমাতে হয়। সবসময় ঔষুধ খাওয়া শরীরের জন্য ভালোনা।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাথা ব্যথা দূর করা যাবে। জেনে নেই তাহলে-
অনেক সময় স্ট্রেস বা ক্লান্তির কারণে মাথা ব্যথা শুরু হয় তখন রগের দুই পাশ বা ঘাড়ের কাছটা যদি খানিকক্ষণের জন্য ম্যাসাজ করা যায় কিছুটা আরাম পাওয়া যাবে। অনেক সময় কমে যায় ব্যথা।
ম্যাসেজ করতে বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর ব্যবহার করুন। যতক্ষণ না ব্যথা কমছে বৃত্তাকার ম্যাসাজ চালিয়ে যান। বলা হয় যে মাথা ধরার উৎপত্তি হয় আমাদের ব্রেনে। এই ধরনের প্রেশার ব্যথার উৎপত্তিস্থলে গিয়ে কাজ করে।
মাথা ব্যথা শুরু হলে কম আলোতে থাকবেন কিছু সময়ের জন্য। এসময় কম্পিউটার স্ক্রিন, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোনের আলোর বিচ্ছুরণ থেকেও দূরে থাকবেন। বাইরে বের হবার খুব বেশি প্রয়োজন হলে পরে নিতে পারেন খুব ভালো মানের অ্যান্টি গ্লেয়ার রোদচশমা পরুন।
অনেকেই জানে না গরমপানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে যে মাথাব্যথা কমে, কারণ পায়ে বাড়তি উত্তাপের সঞ্চার হলে সেখানে রক্ত ছুটে যায়। ফলে আপনার মস্তিষ্কের রক্তনালীর উপর প্রেশার কমে যায়, কমে মাথাব্যথাও।
অনেক সময় মাথা ব্যথাতে কপালে আর ঘাড়ে গরম সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে কাজে দেয় ঠান্ডা সেঁক। হাত বরফপানিতে ডুবিয়ে রাখলেও একই ফল পাবেন। ঠান্ডায় রক্তনালীগুলি সঙ্কুচিত হয়ে আপনাকে আরাম দেবে।
ব্যথা শুরু হলে কপালে আর রগে ব্যবহার করতে পারেন এসেনশিয়াল অয়েল, বিশেষ করে ল্যাভেন্ডারের মতো কোনো সুগন্ধি দিয়ে ম্যাসাজ করে দেখতে পারেন। পিপারমিন্ট অয়েলও মাথাব্যথা কমাতে কার্যকর। অফিসে থাকলে রুমালে এসেনশিয়াল অয়েল নিয়ে ইনহেল করে দেখতে পারেন।
মাথাব্যথা কমাতে দারুণ কাজ করে চা বা কফিতে উপস্থিত ক্যাফেইন। তবে যারা খুব ঘন-ঘন কড়া চা-কফি খেতে অভ্যস্ত, তারা এতে তেমন সুবিধে পাবেন না। আদা আর লবঙ্গ দিয়ে কড়া করে কালো চা তৈরি করে খেলেও অনেকে আরাম পান।
একটু সচেতন থাকলেই ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে দূর করা যাবে মাথা ব্যথা। সচেতনতাই সুস্থতার লক্ষণ।

