ইউনিসেফের কাছ থেকে ৪১২ কোটি টাকার টিকা কিনছে সরকার


জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিসের সময় কমল ১ ঘণ্টা, ব্যাংকিংয়েও বড় বদল

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহে আবারও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির পথেই হাঁটছে সরকার। ইউনিসেফের কাছ থেকে হাম প্রতিরোধী টিকা কিনতে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬ হাজার ১৭০ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৬২ হাজার ২৯২ জন।

সরকার পরিবর্তনের কিছুদিন পরই দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে নতুন সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হয়। একই সঙ্গে আলোচনায় আসে আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিকল্পনা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্ন।

এ সময় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফও। ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, সম্ভাব্য টিকা সংকটের বিষয়ে তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে পাঁচ থেকে ছয়টি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয় এবং অন্তত ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পরে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের কাছে পাঠানো ইউনিসেফের একটি চিঠির বিষয়বস্তু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেখানে বাংলাদেশে টিকার “আসন্ন ঘাটতি” নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

হামের প্রকোপের ভয়াবহতাও উঠে এসেছে স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯২ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত তিন মাসে হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৬৩১ জনে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করত, যেখানে অর্থায়নের বড় অংশই আসত উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। তবে ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কেনাকে রাজস্ব বাজেটের আওতায় এনে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকা নিশ্চিত করতেই সরকার আবারও সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্তে ফিরেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।