বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের ভয়াবহ চিত্রের মধ্যে আবারও উদ্বেগজনক অবস্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। বিশ্বের ১২৬টি শহরের বায়ুমান সূচকে দূষণের দিক থেকে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী। অন্যদিকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের প্রকাশিত সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ১৫৪। এই স্কোর অনুযায়ী রাজধানীর বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ৩৮৬ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির বায়ুমান ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। শহরটির একিউআই স্কোর ২৪৯। ১৮৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। চতুর্থ স্থানে থাকা চীনের বেইজিংয়ের স্কোর ১৭৩ এবং পঞ্চম স্থানে থাকা পাকিস্তানের করাচির স্কোর ১৬০।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাসের মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয়।
অন্যদিকে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে বাতাস অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলাবালিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
বাংলাদেশে বায়ুমান নির্ধারণে মূলত পাঁচ ধরনের দূষণকারী উপাদান বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো—বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত কারণে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

