অনুমোদন ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বেশি দিন টিকবেন না, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি


অনুমোদন ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বেশি দিন টিকবেন না, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের টালমাটাল রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে খামেনিপুত্র মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির বিশেষ পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’।

তবে এই নিয়োগের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক মন্তব্যে জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের সবুজ সংকেত ছাড়া তেহরানের মসনদে বসা কেউ ‘বেশি দিন টিকবেন না’।


ট্রাম্পের ‘অনুমোদন’ ও তেহরানের চ্যালেঞ্জ

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানের নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিজের প্রভাব খাটানোর দাবি করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ওয়াশিংটন যাকে অনুমোদন দেবে না, তার স্থায়িত্ব হবে অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ এবং প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের দাবি, মোজতবা খামেনির মতো কট্টরপন্থীকে ক্ষমতায় বসানো মানে হলো সংঘাতকে আরও উসকে দেওয়া, যা যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

অন্যদিকে, তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দে থাকা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিকে পাত্তাই দেয়নি। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবাকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা বিদেশি শক্তির চাপের কাছে মাথা নত করবে না। ৫৪ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের প্রভাবশালী রেভোল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নেপথ্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন।

কেন লক্ষ্যবস্তু মোজতবা খামেনি?

মোজতবা খামেনিকে নিয়ে পশ্চিমাদের আপত্তির মূল কারণ তাঁর আপসহীন এবং কট্টরপন্থী মনোভাব। গত দুই দশকে তিনি ইরানের গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা বলয়ে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারণা, মোজতবার অধীনে ইরান আরও বেশি উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকবে, যা ইসরায়েলের অস্তিত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের জন্য চরম হুমকি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘বেশি দিন টিকবেন না’ মন্তব্যের নেপথ্যে কেবল কূটনৈতিক চাপ নয়, বরং পরবর্তী কোনো সামরিক অভিযানের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও থাকতে পারে। কারণ, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান এখন রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে।

যুদ্ধের উত্তাপ ও প্রাসঙ্গিক কিছু তথ্য:

  • নিহত শীর্ষ নেতা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

  • ট্রাম্পের আল্টিমেটাম: ওয়াশিংটনের অনুমোদনহীন নেতাকে উৎখাতের সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

  • মোজতবার উত্থান: ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ মোজতবা খামেনিকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করেছে।

  • আঞ্চলিক অস্থিরতা: তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে।


যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

মোজতবা খামেনির অভিষেক কেবল একটি পদ পূরণ নয়, বরং এটি ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার লড়াই। ট্রাম্পের হুমকির ফলে তেহরানের ভেতরে জাতীয়তাবাদী মনোভাব আরও তুঙ্গে উঠেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতি এবং সামরিক চাপের মুখে মোজতবা কতটুকু প্রতিরোধ গড়তে পারবেন?