আজ মঙ্গলবার থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করবে শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি। শিক্ষা জাতীয়করণসহ আরও কয়েকটি দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছে।
এদিকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অষ্টম দিনের মতো আমরণ অনশন করেছেন। টানা এই কর্মসূচির পাশেই জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল প্রতীকী অনশন করেছেন তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা প্রেসক্লাবের সামনে গতকাল সারা দিন প্রতীকী অনশন পালন করেন। তাঁরা বলেছেন, দাবি আদায় করতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে আগামী দু-এক দিন তাঁরা অনশন করবেন। এরপরও দাবি আদায় না হলে তাঁরা আমরণ অনশনে যাবেন।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত পূরণ করলেও তা জাতীয়করণ করা হয়নি। এই ধরনের ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ১৬ হাজার ৩৩৬ জন। এত দিন পর কেন তাঁদের আন্দোলন—এমন প্রশ্নে মো. মামুনুর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর জেলা-উপজেলা-বিভাগীয় পর্যায়ে স্মারকলিপি দেওয়া, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে দেখা করা, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারের কোনো পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় তাঁরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হন।
এদিকে প্রেসক্লাবের সামনে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ডাকে শিক্ষক-কর্মচারীদের আমরণ অনশন পালন গতকাল পড়ল অষ্টম দিনে। ফোরামের ডাকে ১০ জানুয়ারি থেকে প্রথমে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি, পরে ১৫ জানুয়ারি থেকে তাঁরা আমরণ অনশন করছেন।
ফোরামের প্রেস সচিব এনামুল ইসলাম বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত না প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আসছে, তত দিন আমরা অনশন চালিয়ে যাব। দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত আমরা বাড়ি ফিরব না।’
লিয়াজোঁ ফোরামে দাবি, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে গতকাল চারজন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। প্রাথমিক ও হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শেষে তাঁরা কিছুটা সুস্থ হলে আবার অনশনে যোগ দেন। এ নিয়ে গত সাত দিনে এক শ শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়েছেন।
আরও পড়ুন; আজ দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট
এবার আমরণ অনশনে যাচ্ছেন এমপিওভুক্তরা
মাদ্রাসা শিক্ষকদের অনশন শুরু আজ
তৃতীয় দিনের মতো অনশনে শিক্ষকরা, হাসপাতালে ভর্তি ১৫ জন
শিক্ষকদের অনশন ভাঙ্গালেন গণশিক্ষামন্ত্রী
তৃতীয় দিনের মত চলছে সহকারী শিক্ষকদের অনশন
রাজধানীতে চলছে সহকারী শিক্ষকদের অনশন
