বর্তমানে ফুলের আদান প্রদানের মাধ্যমেই শুরু হয় প্রণয়ের প্রথম ধাপ। তবে এমন একটা সময় ছিল যখন আপেল ছুড়েই প্রকাশ করা হতো ভালবাসা।
আপেল ছুড়ে মারলে কিভাবে প্রেম হয় আজ সেই গল্পই বলব।
বহুদিন আগের কথা, তখন একজন নারীর দিকে আপেল ছুড়ে মারাকে সে নারীর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করার পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হত। আর যদি সেই নারী আপেলটি ধরে ফেলে, এর মানে হচ্ছে সে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে। রূপকথার মতো করে শুরু করলেও ঘটনাটি কিন্তু সত্য। অন্যান্য গ্রীক প্রথার মত এই প্রথারও উৎপত্তি গ্রীক পুরাণে বা প্রাচীন পুরাকথা থেকে।
তবে চলুন ঘুরে আসি সেই প্রাচীন যুগে। থেটিস (থেটিস সাগরের প্রচীনতম দেবতা নেরেউসের কন্যা) ও পেলেসের (গ্রীক পুরাণে পেলেস ছিলেন মহাবীর ও আইজিন দ্বীপের রাজা আইকাসের পুত্র) বিয়েতে নিমন্ত্রণ করা হয়নি বলে সংঘাতের দেবী এরিস অত্যন্ত বিরক্ত হন। তাই প্রতিশোধ হিসেবে তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানে একটি আপেল ছুঁড়ে মারেন, তাতে লেখা ছিল “সবচেয়ে সুন্দরী নারীর জন্য”। এরপর যা ঘটেছিল তা অনেক রোমাঞ্চকর। কিন্তু এই ঘটনাই ছিল ট্রয় নগরীর সেই মহাযুদ্ধের সূচনা, আর এভাবে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন ধ্বংস বা সংঘাতের দেবী এরিস।
যাই হোক, বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তিনজন দেবী এথেনা, আফ্রোদিতি ও হেরা একজন অন্যজনের সাথে ঝগড়া শুরু করলেন এই নিয়ে যে আপেলটি কাকে উদ্দেশ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল। ঝগড়ার একপর্যায়ে তিন দেবী কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পেরে নানানজনের পরামর্শে তারা ঠিক করলেন মধ্যস্থতা করবেন। আর এই বিবাদ মেটাতে ডাকা হলো প্যারিসের ট্রয় সম্রাজ্যের রাজপুত্রকে। তাকে আনুরোধ করা হলো এই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যে কার দিকে আপেলটি ছুঁড়ে মারা হয়েছিল।
এদিকে তিনজন দেবীই ট্রয়ের রাজপুত্রকে গোপনে ঘুষ দিলেন তাদের বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য। কিন্তু আফ্রোদিতি তাকে সবচেয়ে ভাল প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি ওয়াদা করেছিলেন যদি রাজপুত্র তাকে আপেলটির মালিক ঘোষণা করেন তাহলে তিনি তার বহুল প্রতীক্ষিত হেলেনকে তার নিকট এনে দিবেন। তখন তিনি আপেলটি আফ্রোদিতির হাতে তুলে দিলেন।
সেই থেকে আপেল ছুঁড়ে মারা ভালবাসা প্রকাশের পন্থা ধরা হতো। যদি কেউ কোন নারীর দিকে আপেল ছুঁড়ে মারত তাহলে একে ভালবাসার ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এছাড়াও সেই সময়ে নব দম্পতিরা বিয়ের রাতে ভালবাসার প্রতীক হিসেবে আপেল খেতো এবং সবাই সবাইকে আপেল উপহার দিতো।

