আর তো মাত্র কয়েকটা দিন!


paperslife

কথাটা কারা বলে- এটা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। আমার কথা বাদ দিই, মাশরাফি ভাইর কথাটাই বলি। আমি একটা ইন্টার্ভিউতে বলেছিলাম- যারা এই কথাটা লিখছে বা যারা এটা নিয়ে আলোচনা করছে তারা যদি ঐ লেখাটা লেখার আগে বা কিছু একটা বলার আগে দুইটা মিনিট যদি একটু চিন্তা করে আমি কার ব্যাপারে বলছি, তিনি কী করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গত ১৫-১৬ বছরে…

ধরুন সে আনফিট, সে তো ১০ বছর ধরেই আনফিট। তখন কিন্তু আমরা এটা আবেগি হয়ে দেখেছি। এখন হয়তবা একটু উনিশ-বিশ হচ্ছে দেখে বড় করে দেখছি।

এমন একটা ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা এসব কথা বলছি যার হাত ধরেই আমাদের এতদূর আসা। আমার কাছে মনে হয় এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। উনি যা করেছেন দলের জন্য, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এখানে আনার জন্য, উনার ব্যাপারে এভাবে কিছু মন্তব্য বা আলোচনা করা এটা খুবই অশোভন।

কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। কাকে নিয়ে বলেছেন, তা হয়ত বলে দিতে হবে না। তিনি মাশরাফি বিন মুর্তজা। যাকে নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরেই চলছে আলোচনা, সমালোচনা।

একটু পিছনে চলে যাই। তখন ২০১৪ সাল। ২০১৩ সালে অসাধারণ ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশ হঠাৎ করেই খেই হারিয়ে ফেলেছে। এশিয়া কাপে সবগুলো ম্যাচ হেরেছে। এমনকি আফগানিস্তান এসে হারিয়ে দিয়ে গেছে।

বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টিতে হারতে হয়েছে হংকংয়ের সাথে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বিগত কয়েকবছরে যতটা এগিয়েছিল, এই এক বছরেই পিছিয়ে গেছে তার চেয়েও বেশি।

সামনের বছর বিশ্বকাপ। এমন চলতে থাকলে সেই বিশ্বকাপটা হতে যাচ্ছে দুঃস্বপ্নের, তা বলাই বাহুল্য। হুট করেই মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে কেড়ে অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়া হয় মাশরাফি বিন মর্তুজা কাছে।

এর পরের গল্প তো সবার জানা। মাশরাফির হাতের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখি বিশ্ব জয়ের। শুধু ওই একজনের হাত মাথার উপর আছে বলেই।

দীর্ঘদিন দলে সুযোগ পাওয়া ইমরুল কায়েস যখন নার্ভাস ভঙ্গিতে বসে থাকেন, এই মাশরাফিই বলেন সেঞ্চুরি করতে হবে না। শূন্য রানে আউট হলেও অসুবিধা নাই। শুধু নিজের খেলাটা খেলতে হবে। ফলাফল, পরপর দুই ইনিংসেই ৭০+ রান।

ঘরোয়া ক্রিকেটে রান বন্যা ভাসানো লিটন কুমার দাস যখন লাল-সবুজের জার্সিতে একের পর এক ব্যর্থতা উপহার দিয়ে যাচ্ছে, তখন একজন মাশরাফি আস্থা হয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন পর একটি অর্ধশতক করা লিটনকে হৃদয় বড় করতে বলেন, ইনিংস বড় করতে বলেন। সেই ম্যাচে লিটন তার ক্যারিয়ার সেরা রান করেন।

একজন মাশরাফি শুধু একজন ক্যাপ্টেন না, একজন অভিবাবকও বটে। সেই অভিবাবক কখনো কখনো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।

২০১৪ সালে যখন মাশরাফির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, এর পর থেকে এখন পর্যন্ত মাশরাফির উইকেট ১০১ টি। বাংলাদেশিদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

এর পরেই আছেন সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের উইকেট ৮৭টি করে। এছাড়াও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার তারই।

একজন ক্যাপ্টেন কোটায় খেলে, আনফিট হয়েও যদি সেরাদের চেয়ে সেরা পারফর্ম কেটে পারে। তবে এমন আনফিট খেলোয়াড়ই তো প্রয়োজন।

আপনারা বলছেন, মাশরাফিকে বাদ দিতে হবে। কেবল তিনটি ম্যাচ দেখেই? বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট ছিল মাশরাফির। তবে কিসের ভিত্তিতে বাদ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে?

মাত্র তিনটি ম্যাচ দেখে আপনাদের ক্রিকেটীয় মস্তিস্ক একজনকে বাদ দেওয়ার কথা বলতে পারে? তিনটি ম্যাচ দেখেই একজনই পারফরম্যান্স দৃষ্টিকটু লাগে? আর আগের পারফরম্যান্সগুলো? সেগুলোর কি কোনো মূল্য নেই? এই অবস্থানে আসতে একজন মাশরাফির অবদান এত সহজে ভুলে গেলে চলবে?

কিছুদিন আগেই যেই মাশরাফি ছিল সকলের মধ্যমণি, সেই মাশরাফি এখন সকলের চক্ষুশূল। শুধুই কি পারফরম্যান্সের জন্য, নাকি অন্য কিছু?

সে যাই হোক, আর তো কয়েকটা দিন। একটু সহ্য করুন। এই মাশরাফি আর লাল সবুজের জার্সি গায়ে মাঠে নামবে না। কলার উঁচিয়ে ব্যাটসম্যানদের বুক কাঁপাতে দৌড় দিবে না।

ঘাড়ের রগ বাঁকা করে আর কেউ নিজেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিবে না। ইনজুরির সাথে যুদ্ধ করে আর ফিরে ফিরে আসবে না। ভরসা হয়ে আর কেউ পুরো দলটাকে আগলে রাখবে না।

তখন মেনে নিয়েন, পৈশাচিক আনন্দে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন। আপনার সেই হাসির দিনেই আমাদের দু’চোখ ভেঙে জল পড়বে। মাশরাফি তো আমাদের, আপনাদের না!

 

পড়ুন : এবং মাশরাফি…