আশ্রয়কেন্দ্রেও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে রোহিঙ্গারা




মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এদেশেও ভাল নেই। জীবন বাচলেও, আশ্রয়কেন্দ্রেও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ছোট ছোট তাঁবুর নিচে ৩০ থেকে ৪০ জন করে রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। ক্ষুধার্ত এই রোহিঙ্গারা শুধু তাঁবুর নিচে রাত পার করার চেষ্টা করছেন।
কোথাও জায়গা না পেয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ৭২টি স্কুল-মাদ্রাসায় আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা এসব আশ্রয় কেন্দ্রে মানবেতর অবস্থায় দিনযাপন করছেন। এদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তালিকা করে এসব শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে বলে জানায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো।
যারা কিছু জায়গা পেয়েছেন মাথা গোজার তারা সেখানে ঠায় করে নিয়েছেন। সেখানে যে সব স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে প্রত্যেকটির অবস্থা এই মুহূর্তে কোথায়ও পা ফেলার জায়গা নেই। উখিয়ার প্রত্যেকটিতে রেজিস্টার্ড শিবির রয়েছে।
নতুন শরণার্থীরা আসার কারণে প্রত্যেকেই এখানে গাদাগাদি করে যেভাবে পেরেছেন সেভাবেই অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্ত প্রত্যেকটি স্কুল এবং মাদ্রাসায় এক থেকে দেড়শ পরিবার অবস্থান নিয়েছে। শরণার্থীদের স্কুলগুলোতে শ্রেণিকক্ষ থাকলেও শিক্ষার্থীদের দেখা যায়না এখন। এখানকার ১২টি স্কুল ও মাদ্রাসায় এখন আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার নতুন শরণার্থী।
এ রকম পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের তালিকা করার উদ্যোগ নিয়েছে। স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, আমাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন কাজে উনাদের সহযোগিতা করছেন। রান্না থেকে শুরু করে রোগীর সেবা সব ধরনের কাজ করছে তারা। নতুন শরণার্থীদের নিবন্ধনের কাজ শেষ হলে এবং শরণার্থীদের থাকার ব্যবস্থা হলে স্কুলের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তারা।
রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও তল্লাশিচৌকিতে গত ২৫ আগস্ট রাতে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এর জেরে সেখানে নতুন করে সহিংস সেনা অভিযান শুরু হয়। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে ২৫ আগস্টের পর তিন লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তবে এ সংস্থাটির মতে অতি দ্রুতই এ সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।