মিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় পড়ে আছে ৭টি মৃতদেহ




রাজধানীর মিরপুর মাজার রোডে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা ছয় তলা ভবনে মোট ৭টি মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘরের মেঝেতে পোড়া মরদেহগুলোর পড়ে আছে। তবে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
বুধবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজির আহমেদ।
তিনি বলেন, জঙ্গি আস্তানায় মোট ৭টি মরদেহ রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে যে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তাতে মরদেহগুলো পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়ায় এগুলোর মধ্যে কোনটি নারী আর কোনটি পুরুষ তা সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ওই সাতজন হলেন সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী নাসরিন ও ফাতেমা, দুই ছেলে ওমর ও ওসামা, যাদের বয়স তিন থেকে নয় বছর এবং আবদুল্লাহর দুই কর্মচারী, যাদের নাম জানা যায়নি।
বুধবার দুপুরে অভিযানের একপর্যায়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। এখন সেখানে র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের অভিযান চলছে।
এরআগে গতরাত থেকে ভোর পর্যন্ত বাড়ির ভেতরে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। বাড়ির ভেতরে রাসায়নিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা র‌্যাবের। বিস্ফোরণ আর গোলাগুলির শব্দে ভোর রাতে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর এলাকায়।
মঙ্গলবার দিনভর অভিযানের পর সন্ধ্যায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জঙ্গি আবদুল্লাহ পরিবারের ৪ সদস্যসহ আত্মসমর্পণে সম্মত হয়েছে। কিন্তু রাত গভীর হলেও আত্মসমর্পণ করেনি তারা। উলটো বাসার ভেতরে মাঝরাত থেকে ভোর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় শোনা যায় বিষ্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ। এ সময় ভবনে আগুন ধরে যায়। এরপর বুধবার সকালে আবারো শুরু হয় অভিযান। পরে র‌্যাব জানায় পাঁচ তলার একটি কক্ষে তিনজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
জঙ্গির অবস্থান সন্দেহে সোমবার মধ্যরাত থেকে রাজধানীর মিরপুর মাজার রোডের বর্ধনবাড়ী এলাকার বাড়িটি ঘিরে রাখে র‌্যাব। এ সময় বাড়ি থেকে তাদের ওপর বোমা হামলা হয় বলেও র‌্যাব জানিয়েছে। ভবন থেকে নিরাপদে বের হওয়ে আসা বাসিন্দারা জানান তাদের কয়েক ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অবস্থার কথা।
সোমবার রাত ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় কালিহাতি উপজেলার মসিন্দা গ্রামে অভিযান চালিয়ে খোকন ও মাসুদ নামে দুই ভাইকে আটক করে র‌্যাব। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মিরপুরের জঙ্গী আস্তানার সন্ধ্যান মেলে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।