ইইউ ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর




ইইউ ও কানাডার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে, যদিও এর বিরোধীরা এই চুক্তির ফলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।
ইইউ এটিকে তাদের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী চুক্তি বলে উল্লেখ করেছে এবং জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ অন্যদের সঙ্গে ভবিষ্যত্ চুক্তির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক চুক্তিটি একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (সিএটিএ) ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে ব্রিটেন ও ইইউর সম্পর্কের ব্যাপারে একটি মডেল নির্ধারণ করবে।
দীর্ঘ সাত বছর চেষ্টার পর ইইউ ও কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে গত বছরের অক্টোবরে ল্যান্ডমার্ক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি সম্পন্ন করে।
‘আমরা আমাদের বাণিজ্য নীতি যেমনটা চাই, এই চুক্তি সেটি ধারণ করে। এটি উন্নয়নের একটি চালিকাশক্তি, যা ইউরোপীয় নাগরিক ও কোম্পানিগুলোকে উপকৃত করবে,’ এক বার্তায় বলেন, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লদ ইয়ুঙ্কার।
তিনি আরো বলেন, যদিও এটি আমাদের মূল্যবোধ, বিশ্বায়ন লালন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের নীতিমালাকে আকার দানকারী একটি হাতিয়ারও বটে।
সিএটিএ ইইউর অনুমোদন সাপেক্ষে অস্থায়ী ভিত্তিতে ৩০টিরও বেশি জাতীয় ও আঞ্চলিক সংসদে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ হতে কয়েক বছর লাগতে পারে। এই চুক্তি ৫১ কোটি ইউরোপীয় ভোক্তা এবং ৩ কোটি ৫০ লাখ কানাডিয়ানের ওপর প্রভাব ফেলবে, এমনকি ইউরোপ ও কানাডার পণ্যসমূহের ৯৮ ভাগের ক্ষেত্রে শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।
আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে চুক্তি থেকে বাদ পড়েছে একটি বিতর্কিত বিনিয়োগ সুরক্ষা পরিকল্পনা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোর একটি নিয়মিত উপাদান। এই বিধান অনুসারে কোম্পানিগুলো আইনের আশ্রয় নিতে পারে, যদি তারা বিশ্বাস করে যে, সরকারি নীতির পরিবর্তনের ফলে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
অবশ্য বিধানি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপগুলোর মাঝে আশঙ্কা তৈরি করেছে যে, শক্তিশালী মাল্টিন্যাশনালগুলোর বাধার মুখে এটি ইউরোপীয় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
গ্রিনপিস ট্রেড ক্যাম্পেইনার কিস কোড বলেন, জাতীয় সংসদের আলোচনার আগেই সিইটিএর কার্যক্রম শুরু হওয়াটা অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরো বলেন, ইইউএর তুলনায় কানাডার খাদ্যনিরাপত্তা ও লেবেলিংয়ের মান দুর্বল এবং কৃষিজ শিল্প কীটনাশক ও জিএম শস্যর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।
এসব উদ্বেগের কারণে বেলজীয় অঞ্চল ওয়ালোনিয়া, যেখানে ৩৬ লাখ লোক বাস করে, কৃষকদের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিত রাখতে বলে।
এটি আরো দাবি করে, ইনভেস্টর স্কিমটি ইইউর শীর্ষ আদালত, দি ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসের অধিক আইনি নিরীক্ষণের সম্মুখীন হবে। এই মতামতটিও এখনো অমীমাংসিত আছে।
সিএটিএর ব্যাপারে অ্যাক্টিভিস্টদের উষ্মা আরো ঘনীভূত হয়, যখন ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরো বৃহত্ ও অধিকতর চুক্তির ব্যাপারে অগ্রসর হচ্ছে।
অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি তীব্র বিশ্বায়নবিরোধী অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন, নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রান্সআটলান্টিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ (টিটিআইপি) চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।