করোনাভাইরাস এ মহামারির মধ্যেই বিকালে বসছে একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় বৈঠক শুরু হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ত বাজেট আলোচনায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো বাজেট অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি, দর্শনার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবন ও অধিবেশন কক্ষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে দায়িত্ব পালন করবেন সংসদ সচিবালয়ের এমন ৪৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে।
পরীক্ষায় ৪৩ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তাদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
এদিকে শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বয়স্ক সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুসাহিত করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে সুস্থ হওয়া এমপিদেরও অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অধিবেশন কক্ষে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে।
জানা গেছে, অধিবেশন শুরুর দিন অধ্যাদেশ উত্থাপন ও শোক প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শেষ করা হবে। ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও তা গ্রহণের পর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ হয়। অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর দুই থেকে চার দিন এবং সাধারণ বাজেটের ওপর ১২-১৫ দিন আলোচনা হয়।
বাজেট নিয়ে ৫০ থেকে শুরু করে ৬৫ ঘণ্টার মতো আলোচনার রেকর্ড রয়েছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় অধিবেশ ও আলোচনা হবে সংক্ষিপ্ত। ১১ জুন বিকাল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। বাজেট পেশ ও অর্থ বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ দিনের কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপনের আগে সংসদে বসবে মন্ত্রিসভার বৈঠক। এই বৈঠকেও পূর্বনির্ধারিত মাত্র ১০ মন্ত্রী ও ১০ সচিব অংশগ্রহণ করবেন। বাজেট অনুমোদনের পর তা পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের জন্য। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ওই সময় সংসদ ভবনেই অবস্থান করবেন। পরে রাষ্ট্রপতি গ্যালারিতে বসে অধিবেশন দেখবেন।
১১ জুন বাজেট উপস্থাপনের পর ১২ ও ১৩ জুন বৈঠক মুলতবি রাখা হবে। ১৪ ও ১৫ জুন সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা ও সম্পূরক বাজেট পাস করা হবে। ১৬ জুন শুরু হবে প্রস্তাবিত সাধারণ বাজেটের ওপর আলোচনা। ১৬ ও ১৭ জুন দুদিন আলোচনা শেষে ১৮ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি থাকতে পারে।
এর পর ২২ জুন থেকে ২৪ জুন আরও তিন দিন বাজেটের ওপর আলোচনা করে ২৫ জুন থেকে ২৮ জুন চার দিনের বিরতি দেওয়া হতে পারে। ২৯ জুন বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে। ওই দিনই পাস হবে অর্থবিল।
পর দিন ৩০ জুন মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। এর পর আরেকটি বিরতি দিয়ে ৮ বা ৯ জুলাই একদিনের জন্য অধিবেশন বসে ওই দিনই সমাপ্তি টানা হতে পারে।

