ইরাকের উত্তরের শহর মসুলে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবির ঘটনায় অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মসুলের দজলা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের অধিকাংশ নারী ও শিশু। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বছর পালন করতে ফেরিটি প্রায় ২০০ জন যাত্রী নিয়ে একটি পর্যটন দ্বীপে যাচ্ছিলো। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরেই ফেরিটি উল্টে গিয়ে ডুবে যায়। ফেরির অধিকাংশ যাত্রী সাঁতার কাটতে না পারায় হতাহতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ৯৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ১০ শিশু রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদের উদ্ধারে অভিযান ব্যাহত রয়েছে।
নিয়ে মোটামুটি চার কিলোমিটার উজানে পর্যটন দ্বীপ উম রাবায়েনে রওনা হয়েছিল ওই ফেরি। যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন।
ফেরিতে থাকা এক যাত্রী জানিয়েছে, ফেরিটিতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অধিক যাত্রী ছিল। এই কারণেই ফেরির মধ্যে পানি প্রবেশ করে এবং এটি আস্তে আস্তে ডুবে যায়। অনেক শিশুকে ডুবে মারা যেতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ডুবে যাওয়ার আগে ফেরিটি ডান দিকে হেলে পড়েছে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় অনেক যাত্রী তীরে উঠে আসার চেষ্টা করে। অনেককে স্রোতের ওপর ভেসে থাকতে দেখা গেছে।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। অ্যাম্বুলেন্স এবং হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মসুলের বাঁধটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে পানি প্রবাহ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। যে কারণে নদীতে ভ্রমণে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু চালকরা সতর্কতা না মেনেই নদীতে গিয়েছিলো। তারা এটাকে গুরুত্ব দেয় নি।
ইরাকের বিচার মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ওই ফেরির শ্রমিককে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। এবং তার সাথে ফেরির মালিক এবং পর্যটন কেন্দ্রের মালিকদের ইরাক ত্যাগ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

