মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতিতে ঘি ঢাললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার এক বিস্ফোরক বার্তায় তিনি ঘোষণা করেছেন, ইরানে আজ ‘কঠোর আঘাত’ হানা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বিরামহীন সামরিক চাপের মুখে তেহরান কার্যত নতিস্বীকার করে প্রতিবেশীদের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের রণংদেহী মূর্তি
শনিবার (৭ মার্চ) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের ওপর আর কোনো হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি ইরানের পক্ষ থেকে এক প্রকার ‘আত্মসমর্পণ’।
তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত কয়েকদিন ধরে বিরতিহীনভাবে যে প্রচণ্ড হামলা চালিয়েছে, তারই ফলশ্রুতিতে ইরান আজ মাথানত করতে বাধ্য হয়েছে। তারা এখন প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চাইছে।” তবে এই সুর নরম করাকে ইরানের কোনো কৌশল হিসেবে মানতে নারাজ ট্রাম্প। বরং আজই ইরানি স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
‘চাপের মুখে নতিস্বীকার’: হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক এক ঘোষণা। যেখানে পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হামলা না হলে ইরান আর আক্রমণ চালাবে না। এই বিষয়টিকে ট্রাম্প মার্কিন সামরিক শক্তির বিজয় হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, মার্কিন বিমানবাহিনী ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) যৌথ সাঁড়াশি অভিযানের কারণেই তেহরান আজ কোণঠাসা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ‘কঠোর আঘাত’ হানার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে এক নতুন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। যেখানে ইরান শান্তি ও স্থিতিশীলতার কথা বলে প্রতিবেশীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে, সেখানে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান কূটনৈতিক আলোচনার পথকে আরও সংকুচিত করে তুলল।
ট্রাম্পের বার্তার মূল চুম্বক অংশ:
সরাসরি হুমকি: আজই ইরানের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ‘কঠোর আঘাত’ হানার ঘোষণা।
আত্মসমর্পণের দাবি: ইরানের শান্তি প্রস্তাবকে ‘ভয়ে নতিস্বীকার’ ও ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করা।
সামরিক কৃতিত্ব: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার হামলাকে তেহরানের পিছু হটার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা।
আঞ্চলিক প্রভাব: প্রতিবেশীদের কাছে ইরানের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে ট্রাম্প নিজের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
যুদ্ধের মেঘ বনাম কূটনৈতিক কৌশল
ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে ইসরায়েল যখন ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে, তখন ট্রাম্পের এই সরাসরি সমর্থন নেতানিয়াহু সরকারকে আরও সাহসী করে তুলবে। অন্যদিকে, তেহরান যদি সত্যিই সংঘাত এড়াতে চায়, তবে ট্রাম্পের এই উস্কানি তাদের বাধ্য করতে পারে পাল্টা কোনো বড় পদক্ষেপে জড়াতে।
পেন্টাগনের একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আজ রাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর আনাগোনা বাড়তে পারে। যদি ট্রাম্পের কথা অনুযায়ী আজ ‘কঠোর আঘাত’ আসে, তবে তা কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বড় কোনো চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।

