ঈদ ভ্রমণ: কোথায় যাবেন, কিভাবে যাবেন?




সাকিব আহমেদ
ঈদ মোবারক। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। এই ঈদে ঘুরতে যেতে চাচ্ছেন? অথচ বুঝছেন না কোথায় যাওয়া যায়? আপনাদের সুবিধার্তে ঢাকার অদূরে কিছু স্থান নিয়ে সামনে এলাম। যেখানে চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন এবং ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করতে পারেন।
১. সোনারগাঁও জাদুঘর : বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনটি সোনারগাঁও জাদুঘর হিসেবেই পরিচিত। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে।
এখানে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু গ্যালারি, রয়েছে কারুপল্লী, লোকজমঞ্চ, লাইব্রেরি ও ডকুমেনটেশন সেন্টার। ফাউন্ডেশন চত্বরে রয়েছে জয়নুলের সংগ্রাম ভাস্কর্য, শিল্পাচার্যের আবক্ষ ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আদলে আবক্ষ ভাস্কর্য, টিকেট কেটে মাছ ধরার সুবিধাসহ আরও রয়েছে ফুলগাছ লতাপাতায় সবুজের সমারোহের মাঝে খালের মধ্যে ময়ূরপঙ্খি নৌকায় ওঠার চমৎকার সুযোগ। জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা।
চাইলে ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁও জাদুঘর থেকে। কিভাবে যাবেন? ঢাকার গুলিস্তান এর স্টেডিয়াম এর সামনে থেকে সোনারগাঁও গামী অনেক বাস আছে, যেমন – বোরাক, দোয়েল। বাস থেকে সোনারগাঁ মুরগা বা মোগড়া পাড়া স্টেশনে নেমে রিক্সা অথবা সিএনজি করে সোনারগাঁ জাদুঘরের গেইটের সামনে চলে যাবেন। ভাড়া নিবে রিক্সা ২০-৩০ টাকা আর সিএনজি জনপ্রতি ১০ টাকা।
২. পানাম নগর : জাদুঘরের ঠিক কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনা পানাম নগর। পানাম নগর পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি যা নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এ অবস্থিত।
পানাম বাংলার প্রাচীনতম শহর। পানাম নগরীর দুই ধারে ঔপনিবেশিক আমলের মোট ৫২টি স্থাপনা রয়েছে। এর উত্তরদিকে ৩১টি এবং দক্ষিণদিকে ২১টি স্থাপনা অবস্থিত। স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যে ইউরোপীয় শিল্পরীতির সাথে মোঘল শিল্পরীতির মিশ্রণ লক্ষ করা যায়। জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। জাদুঘর থেকে রিকশা করে ১৫-২০ টাকায় আপনি ঘুরে আসতে পারেন পানাম নগরে।
৩. তাজমহল : ভারতে, আগ্রার তাজমহল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি। এরই আদলে সোনারগাঁয়ের কাছাকাছি তৈরি করা হয়েছে বাংলার তাজমহল।
এর অভ্যন্তরে চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক আহসানউল্লাহ মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া দু’জনের কবরের স্থান সংরক্ষিত আছে। চার কোণে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সম্পূর্ণ টাইলস করা। সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার স্থান। এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজমনি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ, উন্নতমানের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা। রয়েছে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও। ইচ্ছা করলে যে কোনো দর্শনার্থী এখানে ছবি তুলতে পারবে। তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ আরও অন্যান্য পণ্য সামগ্রী। জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা।
ঐতিহাসিক তাজমহলে যেতে চাইলে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে কুমিল্লা, দাউদকান্দি অথবা সোনারগাঁগামী যেকোনো গাড়িতে চড়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে নামতে হয়। সেক্ষেত্রে ভাড়া লাগে ১৫ টাকা। সেখান থেকে সিএনজি বা স্কুটারে জনপ্রতি ২৫ টাকা ভাড়ায় সহজে যাওয়া যায় তাজমহলে। অন্যভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ভৈরব, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জগামী যেকোনো গাড়িতে চড়ে বরপা বাসস্ট্যান্ডে নামতে হয়, সেক্ষেত্রে ভাড়া হবে ২০ টাকা। এখান থেকে সিএনজি স্কুটারে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়ায় পৌঁছে যেতে পারেন তাজমহলে।
৪. বালিয়াটি জমিদার বাড়ি : বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলা সদর থেকে আনুমানিক ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ঢাকা জেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত।
বালিয়াটি জমিদার বাড়ীতে আছে দৃষ্টিনন্দন ইমারত, নির্মাণ কৌশল আর অলংকরণে অপূর্ব। বিশাল বিশাল ভবন জমিদার আমলে জমিদারদের বিত্ত বৈভবের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ঝড়-তুফান, বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে এখনো কালের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে। জমিদার বাড়ির সিংহ দরজায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে প্রশস্ত আঙ্গিনা। একই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে চারটি বহুতল ভবন। এগুলোর পেছনে জমিদার অন্দরমহল এবং রয়েছে কয়েকটি পুকুর। প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা।
যেতে চাইলে গাবতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে এস.বি. লিংক বাসে করে যেতে পারেন সাটুরিয়া। ভাড়া ৮৫ টাকা। সেখান থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় ভ্যান পৌঁছে দিবে বালিয়াটি জমিদারবাড়িতে।
৫. বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক : ঢাকা থেকে ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল গড়ের দূরত্ব মাত্র ৪০ কি.মি.। জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ এই স্থানটি সব সময়ই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান।
বন ও প্রাণী বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য সেখানে স্থাপন করা হয়েছে আন্তর্জাতিকমানের প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র। এছাড়া তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র, নেচার হিস্ট্রি মিউজিয়াম, পার্ক অফিস, বিশ্রামাগার, ডরমেটরি, বন্যপ্রাণী হাসপাতাল, কুমিরপার্ক, লিজার্ড পার্ক, ফেন্সি ডাক গার্ডেন, ক্রাউন ফিজেন্ট এভিয়ারি, প্যারট এভিয়ারি, ধনেশ পাখিশালা, ম্যাকাউ ল্যান্ড, মেরিন একোয়ারিয়াম, অর্কিড হাউস, প্রজাপ্রতি বাগান, ঝুলন্ত ব্রিজ, বাঘ পর্যবেক্ষণ রেস্তরাঁ, সিংহ পর্যবেক্ষণ রেস্তরাঁ, কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র, ইকো রিসোর্ট, ফুডকোর্ট, এলিফেন্ট শো গ্যালারি, বার্ড শো গ্যালারি, এগ ওয়ার্ল্ড ও শিশু পার্ক রয়েছে।
পর্যটকদের সুবিধার জন্য রয়েছে বাস ও সাফারি জীপ। বাঘ ও সিংহের বেষ্টনীতে সাফারি বাস ও জীপে পর্যটকরা প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণরত বাঘ, সিংহ ও ভালুক দেখতে পারবেন। এছাড়াও  দেখা যাবে জিরাফ, জেব্রা, ব্লু ওয়াইল্ড বিস্ট, ব্ল্যাক ওয়াইল্ড বিস্ট, ব্লেস বকসহ বিভিন্ন প্রাণী।
প্রবেশ ফি একেক জনের জন্য একেক রকম। বয়স্কদের জন্য ৫০টাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ২০ টাকা, শিক্ষার্থীদের ১০ টাকা, শিক্ষা সফরে আসা শিক্ষার্থী গ্রুপ ৪০ থেকে ১০০ জন ৪০০ টাকা, আর যদি শিক্ষার্থী গ্রুপ ১০০ জনের বেশি হয় তাহলে ৮০০ টাকা এবং  বিদেশি পর্যটকদের জন্য পাঁচ ইউএস ডলার। কিন্তু এই প্রবেশ ফি দিয়ে পার্কে ঢুকলেই যে আপনি সব দেখতে পাবেন তা কিন্তু নয়, পার্কে প্রবেশের পর সবকিছু দেখার জন্য আলাদা টিকেট কাটতে হবে। গাড়িতে সাফারি পার্ক পরিদর্শন করতে চাইলে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য লাগবে ৫০ টাকা, বড়দের ১০০ টাকা।
যেতে চাইলে মহাখালী থেকে ভালুকা, ময়মনসিংহ বা শ্রীপুরের বাসে উঠে পরুন। গাজীপুরের বাঘের বাজার নেমে যাবেন। জ্যাম বিবেচনা সাপেক্ষে ২ ঘণ্টা লাগবে। বাস থেকে নেমে রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় পার্কে যাওয়া যাবে। সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট।