নেতৃত্বের মতো ব্যবসাবুদ্ধিও কি মানুষ জন্মগতভাবে পায়? না; সফল উদ্যোক্তারা মনে করেন, প্রখর জ্ঞান আর দূরদৃষ্টিই ব্যবসায় সফলতার প্রধান পুঁজি। উদ্যোগ নেয়ার আগে গভীর পর্যবেক্ষণ এবং ধীরস্থির ও দৃঢ় পদক্ষেপই সহজ করে দেয় সফলতার দিকে যাওয়ার কঠিন পথটি।
সম্প্রতি ফোর্বস ম্যাগাজিনে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন জেনিফার বৌন্যান্টনি, প্রেস পাস এলএ; স্টেফানি ওয়েলস, ফরমিডেবল ফর্মস; ক্রিস্টিন কিমবার্লে মার্কেট, ফেম ফাউন্ডার; কেরি গার্ড, এমকেজি মার্কেটিং এবং শ্বেতা পাতিল, গ্রোথ মুড স্টার্টআপ।
উদ্যোগ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হওয়া উচিত আপনার ব্যবসার উদ্যোগ যদি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হওয়া উচিত।সব ব্যবসাই আলাদা বৈশিষ্ট্যের। ব্যবসার ধরনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, লোকবল ইত্যাদি নির্ধারণ করতে হয়। পাশাপাশি বাজারে চাহিদার ধরনও নিশ্চয় আলাদা হয়, সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
কাজ করতে করতেই অনেক কিছু শেখা যায়। কাজ শুরুর পর বাস্তবতা অনেক কিছুই বদলাতে বাধ্য করবে। সেজন্য সরাসরি কাজে নেমে পড়াটাই উত্তম। গভীরভাবে বাজার বিশ্লেষণ করে কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি, ভারসাম্য এবং আকার বাড়ানোর বিষয়েও আগে থেকেই ভেবে রাখতে হবে।
জীবনের মূল্যে ব্যবসায় সফলতা কখনোই কাম্য নয়। আর পুরো জীবনটাই ব্যবসায় বিনিয়োগ করার কোনো মানে নেই। সেজন্য আগেই খারাপ অভ্যাস ছেড়ে দেয়ার প্রতিজ্ঞা না করে বরং ভালো অভ্যাস আয়ত্ত করার চেষ্টা করতে হবে। বর্তমান এবং ভবিষ্যত্ জীবনকে আরেকটু সুন্দর করে গোছানোর জন্য জীবনে নিয়ন্ত্রণ আনা খুব জরুরি।
এছাড়া ব্যবসা যেন আপনার ব্যক্তিগত জীবনকেও গ্রাস করে না ফেলে তা নিশ্চিত করতে নিজের কাজের একটা রুটিন করা ভালো। এক একটা অর্জনের জন্য নিজেকেই পুরস্কার দিন। তাতে মন প্রফুল্ল থাকবে। পরিবারকেও সময় দিতে হবে।
প্রফেশনাল হন করপোরেট সংস্কৃতিটা আগে ভালো করে বঝুন। সবচেয়ে ভালো হয় যে ধরনের উদ্যোগ নিতে চান তার কাছাকাছি ধরনের কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা। অধিকাংশ সময় পেশাদারের সঙ্গে মিশুন। করপোরেট পরিবেশে কয়েক বছর কাটালে উদ্যোগ শুরুর আগে গুছিয়ে পদক্ষেপ নিতে আপনার অবচেতন মনই আপনাকে পথ দেখাবে।
গ্রাহকদের চাহিদা যাচাই করুন গ্রাহকরাই জানে তাদের জন্য কোনটা সর্বোত্তম সেটা আপনার চেয়ে ভালো জানে। তাই আপনার উচিত তাদের কথা শোনা। প্রয়োজনে তাদের চাহিদার ওপর গবেষণা করা। তাদের পছন্দ ও মতামতের ভিত্তিতেই আপনাকে তালিকা ধরে ধরে এগোতে হবে। আপনার চটকদার অফার এনে বাজারে চমক দেখাতে চাইলে আগে কাস্টমারের কথা শুনতে হবে, তাদের জানতে হবে এবং তারপর বাজারে আসতে হবে।
এভাবে এগোলে ব্যবসায় ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। তাছাড়া ব্যবসা সেটাই করা উচিত যেটা আপনি আন্তরিকভাবে পছন্দ করেন। শুধু বেশি লাভের আশায় কোনো ব্যবসা শুরু করলে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি! আপনি নিবেদিত না হলে সফলতা ধরা দেবে না।

