ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের বাজার



সিরিয়ায় হামলার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটের পর থেকে চাঙ্গা জ্বালানি তেলের বাজার। যুক্তরাষ্ট্রে মজুদ বৃদ্ধি সত্ত্বেও গতকাল পণ্যটির দাম বেড়েছে। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের দামামা ও ইয়েমেনে ইরান-সৌদি প্রক্সি যুদ্ধও দাম বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখছে।
আইসিইতে জুনে সরবরাহ চুক্তিতে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে দশমিক ৩১ শতাংশ। এদিন পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ২২ সেন্ট বেড়ে ৭২ দশমিক ২৮ ডলারে লেনদেন হয়। নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে দশমিক ৪৪ শতাংশ। এদিন পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৬ সেন্ট বেড়ে ৬৭ দশমিক ১৮ ডলারে লেনদেন হয়।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের এক বিশ্লেষণে জানা গেছে, আইসিতে ব্রেন্টের ব্যারেলপ্রতি দাম ৭১ দশমিক ৮৯ ডলার থেকে ৭২ দশমিক ৪৯ ডলারে ওঠানামা করছে। ডব্লিউটিআই লেনদেন হচ্ছে ৬৬ দশমিক ৭৫ ডলার থেকে ৬৭ দশমিক ৩৩ ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুদ ৩৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল। এর আগে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের জরিপে অংশ নেয়া বাজার বিশেষজ্ঞরা পণ্যটির মজুদ এক লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে বলে জানিয়েছিলেন।
ইআইএ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক উৎপাদন বেড়ে ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের উৎপাদনের দিক দিয়ে বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তালিকায় সবার উপরে আছে রাশিয়া।
উৎপাদন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের বাজারের অন্যতম অনুঘটক হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে উৎপাদন, মজুদ ও সরবরাহের হ্রাস-বৃদ্ধিতে পণ্যটির বাজারেও উত্থান-পতন দেখা দেয়। তাই গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুদ বাড়ায় বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সিরিয়া ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি এ প্রভাব কাটিয়ে বাজারকে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে।
বুধবার এক টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে বলে জানান। গত শনিবার বিদ্রোহীদের ওপর সিরীয় সরকারের রাসায়নিক হামলার অভিযোগ ওঠার পর তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়াকেও এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বলেন। এর জবাবে রাশিয়াও সব ধরনের মার্কিন হামলা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াকে ঘিরে দুই পরাশক্তির এ বিবাদ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটকে আরো জটিল করে তুলেছে।
এক বিবৃতিতে এএনজেড ব্যাংক জানায়, ভূরাজনৈতিক জটিলতা ঘনীভূত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক মজুদ বৃদ্ধির প্রভাব কেটে গেছে।
ভেনিজুয়েলার উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা ও ইরানের ওপর মার্কির অবরোধ আরোপের সম্ভাবনাও আসন্ন দিনে জ্বালানি তেলের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ওসিবিবি ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ বার্নাবাস গ্যান বলেন, ভেনিজুয়েলায় উৎপাদন হ্রাস এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য অবরোধ পণ্যের দাম আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।