সামান্য এক ক্ষুদ্র অণুজীব, অথচ কি বিশাল ভয়াবহতা! এই ক্ষুদ্র অণুজীব কেড়ে নিয়েছে প্রাণ, থামিয়ে দিয়েছে স্বাভাবিক জীবন! কিন্তু কেড়ে নিতে পারেনি ভালবাসায় পূর্ণ থাকা মানুষের মন। বরং, এই ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে এই ক্ষুদ্র করোনাভাইরাসে।
করোনাকে তুচ্ছ করে যে ভালোবাসা ও মানবিকতার গল্প তৈরি করা যায়, তা বারবার দেখাচ্ছেন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা। এবার যেমন দেখালেন ইরানের এক স্বাস্থ্যকর্মী। এমনই এক ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল।
অ্যালঝাইমার্স আক্রান্ত এক বয়স্ক নারী করোনার হাত থেকেও রেহাই পাননি। ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। আর সেখানেই কি-না মেঝেতে বসে নিজের কোলে ওই নারীকে শুইয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছেন এক পুরুষ নার্স। যেন মাকে ঘুম পাড়াচ্ছেন ছেলে। বিশ্বজুড়ে মৃত্যুমিছিলের ভিড়ে যে দৃশ্য মন ভালো করে দিতে পারে মুহূর্তে।
জানা গেছে, মাম্মা কোবরা নামে ওই নারী অনেকদিন ধরেই অ্যালঝাইমার্স রোগে আক্রান্ত। যে রোগে রোগী ভুল যান সব। চিনতে পারেন না কাছের মানুষকেও। এই পরিস্থিতিতে করোনার কোপ থেকেও রেহাই পাননি তিনি। তাকে ভর্তি করা হয় ইমাম খোমেইনি হাসপাতালে।
সেখানেই দিনরাত মানুষের সেবা করে চলেছেন জাভেদ। স্বাস্থ্যকর্মীর কাজে অনেকদিন ধরেই যুক্ত তিনি। সেখানেই তার সঙ্গে আলাপ হয় মাম্মা কোবরার। হঠাতই শনিবার রাতের বেলায় ওই বৃদ্ধা সব ভুলে যান। হাসপাতালকেই নিজের বাড়ি ভাবতে শুরু করেন। আর জাভেদকে নিজের ছেলে।
হাসপাতালের বাকি চিকিৎসক, নার্সরা যখন ওই নারীকে নির্দিষ্ট বিছানায় শুতে যাওয়ার কথা বলেন, তাতে রাজি হননি তিনি। শেষে এগিয়ে আসেন জাভেদ। মেঝেতে বসে নিজের কোলে তিনি টেনে নেন মাম্মাকে। সেখানে শুয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েও পড়েন তিনি।

