করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৬৯ জনের মৃত্যুতে শুক্রবার রাত নাগাদ দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৩৪ জনে। অপরদিকে এই ২৪ ঘণ্টায় ৭৬৯ জনের মৃত্যুতে স্পেনে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৮৫৮ জনে। যা এতদিনের সব মৃত্যুর রেকর্ডকে ছাড়িয়েছে।
এই সময়ে নতুন করে ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে চার হাজার ৪০১ জনের, মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৪৯৮ জনে।
অন্যদিকে স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ হাজার ৮৭১ জনের এই ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৫৯ জনে।
ইতালির সুপারিয়র হেলথ ইনস্টিটিউটের প্রধান সিলভিও ব্রুসাফেরো বলেছেন, আক্রান্তের সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে নতুন সংক্রমণের হার ‘কমছে’, যা গৃহীত কঠোর পদক্ষেপগুলো ফলপ্রসূ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এসব বিধি-নিষেধ শিথিল করা হলে অবস্থা খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, “আমরা এখনও চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাইনি।”
পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতেই প্রথম মানুষের চলাচল সীমিত করা হয় এবং এই বিধি-নিষেধ ৩ এপ্রিলের পরেও বাড়ানো হবে বলে দেশটির কর্মকর্তারা শুক্রবার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইউরোপে ইতালির পরে নভেল করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত দেশ স্পেনের সরকার জরুরি অবস্থা অন্তত ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। দেশটিতে মানুষের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকান ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
স্পেনের নার্সিং হোমের বাসিন্দারাই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির ৯০০ নার্সিং হোমে অন্তত এক হাজার ৫১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নার্সিং হোম, হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র জীবাণুমুক্ত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশটিতে ৯ হাজার ৪৪৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। বেশ কয়েক দিন ধরে চিকিৎসক ও নার্সরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছে।
এদিকে স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন থেকে আমদানি করা স্বল্প সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ৯ হাজার কিট ত্রুটিপূর্ণ। সেগুলো আর ব্যবহার করা হচ্ছে না।

