পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বগতি ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকার কারণে কদর কমছে স্বর্ণের। গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা ছিল ৯৭৩ দশমিক ৫ টন। প্রথম প্রান্তিকের বিবেচনায় ২০১৮ সালে পণ্যটির এ চাহিদা ২০০৮ সালের পর সর্বনিম্ন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪৭ টন। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পণ্যটির চাহিদা ৭ শতাংশ কমেছে।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে স্বর্ণের বার ও মুদ্রার বৈশ্বিক চাহিদা ছিল প্রায় ২৫৫ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। মূলত শীর্ষ ভোক্তা চীনে চাহিদা কমায় এসব পণ্যের সামগ্রিক চাহিদায়ও পতন দেখা গেছে। গত প্রান্তিকে দেশটিতে স্বর্ণের বার ও মুদ্রার চাহিদা ছিল ৭৮ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
ডব্লিউজিসির মতে, ১২ মাস আগে মুদ্রাবাজারে ইউয়ানের অবস্থান নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় সম্পদ রক্ষায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন। তবে গত প্রান্তিকে এ শঙ্কা কেটে গেছে। ২০১৭ সালের মার্চের পর থেকে ইউয়ানের বিনিময় মূল্য প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, গত প্রান্তিকে স্বর্ণালঙ্কারের বৈশ্বিক চাহিদা ৪৮৭ দশমিক ৭ টনে অপরিবর্তিত ছিল। নববর্ষ উপলক্ষে চীনে এবং অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা বেড়েছে। তবে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে ভারতে পণ্যটির চাহিদা ১২ শতাংশ কমেছে।
বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের অন্যতম বড় ক্রেতা। ডব্লিউজিসি জানিয়েছে, গত প্রান্তিকে এসব ব্যাংক তাদের মজুদে ১১৬ দশমিক ৫ টন স্বর্ণ যোগ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে তা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া গত প্রান্তিকে প্রযুক্তি খাতে স্বর্ণের চাহিদা ছিল ৮২ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। স্মার্টফোন ও গাড়িতে এ ধাতু বহুল ব্যবহার হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বুলিয়ন মুদ্রা ঈগলের বিক্রি এক বছরের ব্যবধানে ৫৯ শতাংশ কমেছে। মার্কিন টাঁকশালের তথ্য অনুসারে, গত এপ্রিলে ৪ হাজার ৫০০ আউন্স ঈগল স্বর্ণমুদ্রা বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম।
ডব্লিউজিসি আরো জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে স্বর্ণ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। তুলনামূলক স্থিতিশীল দাম ও নীতি সুদহার বৃদ্ধির বিপরীতে ইকুইটি বাজারে অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক টানাপড়েনে এ সময়ে স্বর্ণের বাজারে মিশ্র অবস্থা বিরাজ করেছিল। ২০১৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীদের তত্পরতায় স্বর্ণের চাহিদা বেশ বেড়েছিল। তবে চলতি বছর সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ছিল ‘দেখ ও অপেক্ষা কর’।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত মার্চের শেষ দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩২৩ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এর বিপরীতে এ বাজারে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে স্বর্ণ ১ হাজার ২৯১ ডলার ও মার্চ শেষে ১ হাজার ২৪৪ ডলারে লেনদেন হয়।
