‘ভার্সিটির অথরিটি টাকা চেয়ে মেসেজ দিচ্ছে, ওয়েবসাইটে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে— এসবে ভয় পাওয়ার কি আছে? টাকা চাওয়া টা কি স্বাভাবিক নয়? অবশ্যই স্বাভাবিক।তারা টাকা চাইলে অবাক হওয়ার কি আছে? আপনি দিবেন না। অবাক তখনই হবেন, যখন শুনবেন আমাদের কেউ (মানে কোন স্টুডেন্ট) টাকা দিয়েছে।’
‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে ক্লাস বয়কট করুন, কোন প্রকার পেমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন। আমাদের কাছে শুধু ভার্সিটি নয়, ইউজিসিও দূর্বল। কারণ, আমাদের নিয়েই ইউজিসি। কম্পিউটার সায়েন্সে বেশিরভাগ ল্যাব ক্লাসগুলো নিজের সরঞ্জাম দিয়েই করা যায়। কিন্তু অন্যান্য বিভাগের ল্যাব কিভাবে সম্ভব? কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক ল্যাব করা সম্ভব নয় শুধু নিজের মেশিন দিয়ে। কেউ অনলাইন ক্লাস করবেন না, কেউ পেমেন্ট করবেন না। ভার্সিটি যদি বাড়িতে যেয়েও চিঠি দিয়ে আসে, সেটাকেও স্বাভাবিক ভাববেন। মেনে নিবেন না। তারা বিভিন্ন ভাবে বোকা বানাতে চাইছে। বর্তমান কৌশলে কাজ না হলে, আরও জটিল কৌশলে যাবে। তবুও স্ট্রিক থাকেন।’
এভাবেই পোস্টের পর পোস্টে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ গড়ে তুলছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ‘প্রাইভেট ইউনিভারসিটির শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে একটি গ্রুপ খুলে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস ও পরিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
দেশের তথা বিশ্বের এই কঠিন সময়ে যেখানে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর, সেখানে হাজার হাজার টাকা দিয়ে অনলাইন ক্লাস করে, পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষা অর্জনের বিলাসিতা দেখানে পারে না মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা।
কি হবে এ শিক্ষা দিয়ে? প্রশ্ন অনেকের। যে শিক্ষা কেবল একটি সার্টিফিকেট দিতে পারবে, সেই শিক্ষা কখনোই বড় হতে পারে না।
শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি, যেকোনো মুল্যে এই টিউশন ফি মওকুফ করতে হবে। অনলাইন ক্লাসের নামে এই প্রহসন কিছুতেই শিক্ষার্থীরা মানবে না।

একজন তার পোস্টে লিখেন, ‘সেশন জোটে পরলে আপনি একা পরবেন না, আমরাও পরবো কয়েক লাখ শিক্ষার্থী পরবে। কিন্তু যাদের সেমিস্টার ফি দেওয়ার সামর্থ্য নাই তাদের কি হবে? তারা কিভাবে এক্সাম দিবে? একবার ভেবে দেখেছেন? বিবেক কোথায় আপনার?’
আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে প্রতিবাদ নিজেদের দাবি আদায় করা যাবে না। সবাইকে এক হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানাচ্ছেন অনেকেই।
অনেকে আবার শিক্ষাকে ব্যবসার কাতারে ফেলতে নিষেধ করেছেন। শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে বিক্রি করলে দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না কিছুতেই, এসব বিষয়ে পোস্ট করেন বেশকিছু শিক্ষার্থী।
ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে একজন লিখেন, ‘আমরা যারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শুধু আমরাই কেন বৈষম্যের স্বীকার হবো? আমরাই কেনো শিক্ষাসেবা নামক নামধারী ব্যবসা কেন্দ্রগুলোর মূলধন হবো? আপনাদের এমন অনিশ্চিত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য আমাদেরই শিক্ষার মান কেন প্রশ্নবিদ্ধ হবে? লক্ষ লক্ষ মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কথা ভাবলেন না! দয়া করে শিক্ষাকে নোংড়া রাজনীতির স্বীকারে পরিনত করবেন না। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা বন্ধ করুন।’
এছাড়াও নিজেদের অবস্থান শক্ত করে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পোস্টের মাধ্যমে নিজেদের স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছেন।
তবে এ প্রতিবাদ, আন্দোলন চলবে কতদিন পর্যন্ত? যতদিন না পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, দেশের অর্থনৈতিক চাকা পুরোপুরি সচল না হয় – ততদিন এ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন শিক্ষার্থীরা।
একজন বলেন, ‘অনলাইনে ক্লাস করছি না,পরীক্ষা দিচ্ছি না দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে টাকাও দিচ্ছি না। এই যে ভার্সিটি প্রশাসন – মনে রাখবেন শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ভার্সিটি তৈরি হইছে, ভার্সিটির প্রয়োজনে কোন শিক্ষার্থী তৈরি হয়নি। আমাদের আবেগ নিয়ে খেলবেন না।’

