শৈশব
১৩ মার্চ ১৮৫৩ সালে নেদারল্যান্ডের বেরাইড শহরের কাছে গ্রুট জুন্ডার্থ নামে একটি ছোট গ্রামেরে একটি উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের পর পিতামহের নামে তার নাম করা করা হয়। সেই সময়ে পূর্বপুরুষদের নামের নবজাতকের নামকরনের প্রচলন ছিল। শৈশবে তিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন।
১৮৬০ সালে তিনি জুন্ডার্থ গ্রামের একটি স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলে মাত্র একজন ক্যাথলিক শিক্ষক ২০০ জন ছাত্রকে লেখাপড়া করাতেন। ১৮৬১ সাল থেকে ১৮৬৪ সাল পর্যন্ত ভ্যান গখ ও তার বোন আন্না গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশুনা করেন। ১৮৬১ সালের ১ অক্টোবর তিনি বাড়ি থেকে ২০ মাইল দূরের জেভেনবার্গেনের একটি আবাসিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৬৬ সালে তিনি টিলবার্গের মিডল স্কুরে ভর্তি হন। তৎকালীন এক সফল চিত্রকর Constantijn C. Huysmans এর কাছে কিছুদিন চিত্রকলা বিষয়ক শিক্ষা গ্রহন করেন।
ভ্যান গখ খুব ছোটবেলা থেকেই চিত্রকলা বিষয়ে খুব আগ্রহী ছিলেন। গখ শিল্পকলার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি হেগ, লন্ডন ও প্যারিসে ভ্রমণ করেন এবং পরে তিনি ইংল্যান্ডের আইসওর্থ ও রামসগেটে পড়ান। তিনি এই বয়সে অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন এবং একজন যাজক হতে চেয়েছিলেন।
১৮৭৯ সাল থেকে তিনি বেলজিয়ামের একটি খনির অঞ্চলে একজন ধর্মপ্রচারক হিসেবে কাজ করেন যেখানে তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষের স্কেচ করতে শুরু করেন। ১৮৮৫ সালে তিনি তাঁর প্রথম প্রধান কাজ ‘আলু খাদক’ আঁকেন। তাঁর তখনকার কাজগুলো প্রধানত গুরুগম্ভীর ছিলো এবং কোনো প্রগাঢ় রঙের চিহ্ন ছিলো না যা তাঁর পরবর্তী কাজগুলো থেকে আলাদা।
প্যারিস
১৮৮৬ সালের মার্চে, তিনি প্যারিসে আসেন এবং ফরাসি ইম্প্রেশনিজমবাদীদের আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে, তিনি দক্ষিণ ফ্রান্সে যান এবং তিনি সেখানকার প্রবল সূর্যরশ্মির দ্বারা প্রভাবিত হন। তাঁর আঁকা ছবিগুলোতে উজ্জ্বল রঙ বৃদ্ধি পায় এবং তিনি এক অনন্য এবং অত্যন্ত স্বীকৃত শৈলী বিকশিত করেন যা ১৮৮৮ সালে আর্লেসে থাকার সময় তিনি সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করেন।
বর্তমানে তাঁর শিল্পকর্ম নিলাম করা হলে অতি উচ্চমূল্য পাওয়া যায়। তাঁর আঁকা বেশ কিছু ছবি পৃথিবীর সবচেয়ে দামী শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে গন্য করা হয়।
গঁগ্যার সাথে সাক্ষাৎ
১৮৯০র নভেম্বরে পল গোগা ভ্যান গখের সাথে সাক্ষাতে আর্লেসে আসেন।তারপর তাঁরা দুজন একত্রে ছবি আঁকেন। গঁগ্যা সূর্যমুখীর চিত্রকরঃ ভ্যান গখের প্রতিকৃতি শিরোনামে একটি ছবি অঙ্কন করেন। ভ্যান গখ অন্যদিকে তাঁর লাল আঙ্গুরক্ষেত ছবিটি অঙ্কন করেন।
চিত্রকর্ম
- স্ট্র হ্যাটওয়ালা আত্মপ্রতিকৃতি, ১৮৮৭/৮৮
- শুশ্রুমুণ্ডিত আত্মপ্রতিকৃতি, ১৮৮৯
- প্রতিকৃতি, ১৮৮৯
মৃত্যু
কুৎসিত মুখাকৃতির ও জীবনের প্রতি প্রবল হতাশায় ভুগে ১৮৯০ সালের ২৯ জুলাই রিভলভার দিয়ে গুলি করে তিনি আত্মহত্যা করেন।

