বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ কমেছে: জাতিসংঘ




মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের সংখ্যা গত কয়েকদিনে লক্ষণীয় রকমে কমে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে মিয়ানমার ছেড়ে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা যে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে এমন কথা বলার সময় এখনো আসে নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আই ও এম।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকার কাছে মাঠ পর্যায়ে তাদের যে দলগুলো কাজ করছে, তারা পালিয়ে আসা লোকের সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই কমেছে বলে খবর দিচ্ছে। এর সাথে বাংলাদেশের কোস্টগার্ডদের বক্তব্যের মিল রয়েছে – যারা বলছে গত কয়েকদিনে তারা নদী পার হয়ে কোন নৌকা আসতে দেখে নি।
রোববার প্রকাশ করা ‘ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ’-এর এক বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয় গত দু দিনে সীমান্ত পার হয়ে আসা লোকের সংখ্যা কমেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়, অল্প সংখ্যক লোক এই সময়ে কক্সবাজারে এসেছে বলে লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে মিয়ানমারে কর্মরত একটি ত্রাণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির প্রধান এবং সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যা্ন্ড বলেছেন, যে সব দেশ বর্মী সেনাবাহিনীকে সমর্থন দেয় তাদের উচিত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের জন্য তাদের প্রভাবকে কাজে লাগানো। এ সমর্থনকে মানবাধিকার লংঘনের কাজে ব্যবহার করা চলে না। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে তাতে সেখানে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ চলছে বলে অভিযোগও উঠেছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ‘বিশাল পরিমাণে’ আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।
গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর থেকেই রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান চলে। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দমন-পীড়ন চলে তাদের ওপর। সহিংসতা থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে।
২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন সু চি। তাতেও তিনি মিথ্যাচার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।