প্রতিনিয়ত পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। মহামারী বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রকম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (Conspiracy Theories)। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো ঘটনা ঘটার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত করে । আসুন জেনে নেই এই ভাইরাস সম্পর্কে আলোচিত ১০ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব;
ফাইভ-জি (5G) থেকেই ভাইরাস ছড়াচ্ছে
ফাইভ-জি প্রযুক্তির ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়া জৈবিকভাবে অসম্ভব। ফাইভ-জি হলো ওয়েভ বা ফোটন, অন্যদিকে ভাইরাস প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত জৈব কণা। দুটির যোগসূত্র সম্পূর্ণ অবান্তর। সাধারণত ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মাঝে যোগসূত্র দেখাতে চায় যা বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের দ্রুত বিকাশ এবং সমসাময়িক কভিড-১৯ বিস্তারকে জড়িয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছিল। অ্যান্টি-ভ্যাকসিন (টিকা-বিরোধী) অ্যাক্টিভিস্ট দ্বারা প্রচারিত এই সংক্রান্ত একটি হাস্যরসাত্মক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়। অ্যাক্টিভিস্টরা বহুদিন ধরে তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ সম্পর্কে ভীতি ছড়াচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায় না। উল্লেখ্য, কভিড-১৯ এমন অনেক দেশেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে ফাইভজি নেটওয়ার্ক নেই। তবুও এই গুজব দ্বারা প্রাভাবিত হয়ে যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারে আগুন দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
বিল গেটস ছড়িয়েছেন এই ভাইরাস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দোষারোপ করছেন এবং তহবিল দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিলেন; বিল গেটস এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন। এরপর বিল গেটসকে জড়িয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক গুজব ছড়াতে থাকে এবং তিনি নতুন টার্গেটে পরিণত হন।
নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, অ্যান্টি-ভ্যাকসিন অ্যাক্টিভিস্ট, উগ্রডানপন্থি সংগঠনের সদস্য এবং কিছু ডানপন্থি বিশেষজ্ঞ গেটসের দেয়া ২০১৫ সালে টেড টকের একটি ভিডিও নিয়ে কথা তুলেছেন, যেখানে তিনি ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং একটি নতুন মহামারী সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তাদের দাবি, বিল গেটস কভিড-১৯ মহামারী সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি ঘটিয়েছেন।
এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জনপ্রিয় ধারণাটি হল, কভিড-১৯ সারা বিশ্বের জনসংখ্যাকে টিকা দেয়ার জন্য গেটসের নেতৃত্বাধীন ‘গর্হিত চক্রান্তের’ একটি অংশ। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষকে রোগ থেকে বাঁচানো ও মৃত্যুর সংখ্যা এড়ানোর জন্য টিকা কার্যকরী উপায় হতে পারে। তবে অ্যান্টি-ভ্যাকসিন অ্যাক্টিভিস্টদের ধারণা ভ্যাক্সিন বা টিকা’র কার্যকারিতা নেই বরং এটি মানুষের জন্যে ক্ষতিকর। বৈজ্ঞানিক ভাবে এই ধারনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
কভিড-১৯ বলে আসলে কিছু নেই
ডেভিড ইক এবং অ্যালেক্স জোন্সের মতো ‘পেশাদার’ ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের মতে, কভিড-১৯ বলে আসলে কিছু নেই। তাদের দাবি, আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী অভিজাত শ্রেণীর একটা চক্রান্ত।
এই তত্ত্বের প্রাথমিক সংস্করণটি বেশ দুর্বল, যেখানে বলা হয়েছে যে, নভেল করোনাভাইরাসটি ‘সিজনাল ফ্লুর মতো’ এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভকে প্রভাবিত করেছে এই তত্ত্ব। যারা ঘরে না থেকে কোনও রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন তাদের এলাকায় মহামারীটি বেশি ছড়িয়েছে এবং পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ।
মহামারীটি ‘রাষ্ট্রের ভেতর’ থেকে পরিচালিত হচ্ছে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগে থেকেই এখানে উল্লিখিত অনেক থিওরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। ট্রাম্প এবং তার সহকারীরা বিশ্বাস করেন যে আমেরিকার অভিজাত গোষ্ঠী ‘ডিপ স্টেট’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এই তত্ত্বে মার্কিন করোনাভাইরাস মহামারীর মুখপাত্র ড. অ্যান্টনি ফৌসিকে ‘ডিপ স্টেট’ এর একজন গোপন সদস্য মনে করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন এই গুজবের কথা উল্লেখ করেছিলেন তখন ফৌসির অবিশ্বাসের চেহারাই এই গুজবকে দূরে সরিয়ে দেয়।
কভিড-১৯ বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর চক্রান্ত
ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা কন্সপিরেসি থিওরির প্রবর্তকরা চালাকি ও ধাপ্পাবাজি করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির মতো গুজবকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করছেন। যেমন, অ্যালেক্স জোনস তার দর্শকদের দামি ‘অলৌকিক বড়ি’ (Miracle Pills) কেনার কথা বলে অনুদান দিতে অনুরোধ করেন । তিনি দাবি করেন যে, সমস্ত পরিচিত রোগগুলো নিরাময় করতে পারে তার ‘অলৌকিক বড়ি’।
ভুল তথ্য ছড়ানোর কারণে গুগল থেকে নিষিদ্ধ হওয়া ডক্টর মার্কোলা, একজন হাতুড়ে অ্যান্টি-ভ্যাক্স এবং অ্যান্টি-জিএম কর্মী। তিনি দাবি করেছেন, ভিটামিন (এবং তার বিক্রি করা অনেক পণ্য) কভিড নিরাময় বা প্রতিরোধ করতে পারে।
ন্যাচারাল নিউজ, এমন আরেকটি কন্সপিরেটর সাইট, যা এই ধরনের বড়ি, কবিরাজি ওষুধ বিক্রি করে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা বিশ্বাস করে, বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত ও প্রচলিত ওষুধ রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে না বরং আমাদের অসুস্থ করার জন্য বড় ওষুধ সংস্থাগুলোর ষড়যন্ত্রের ফসল হচ্ছে নানা রকম ওষুধ । অ্যান্টি-ভ্যাকসিন বা টিকাদান বিরোধী কর্মীরা মনে করছে, করোনা ভাইরাস বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর চক্রান্ত যাতে কোম্পানিগুলো ওষুধ বা ভ্যাকসিন বিক্রি করতে পারে।
কভিডের মৃত্যুর হার বেশি দেখানো হচ্ছে
অন্য একটি ভুল ধারণা হচ্ছে, কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে, তাই লকডাউনসহ অন্যান্য নিয়ম, সামাজিক দূরত্ব পালন করার কোনও দরকার নেই।
এই মিথ্যা কাহিনী প্রচার করেন, ড. অ্যানি বুকাসেক, যেখানে তিনি বলছেন, কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর সার্টিফিকেট নকল বা হেরফের করা হচ্ছে। এই রকম বার্তা নিয়ে তার একটি ইউটিউব ভিডিও ১০ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে। বুকাসেক মেডিকেল কর্মকর্তার মতো একটি সাদা ল্যাব কোট এবং গলায় একটি স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন; যাতে তার কথা মানুষ বিশ্বাস করে।
রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন অনুসন্ধান করে বের করে যে, বুকাসেক আসলে কট্টর ডানপন্থি, টিকাদান বিরোধী এবং গর্ভপাত বিরোধী কর্মী। মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে বলে তিনি যা বলতে চাচ্ছেন, বাস্তবে তার কোনো ভিত্তি নেই। বরং বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে কভিড-১৯ আক্রান্তদের মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
চীনের গোপন ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে ভাইরাস
কভিড-১৯ মহামারীর কেন্দ্রস্থল, চীনের উহান শহরের ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের গবেষকরা দীর্ঘদিন বাঁদুড়ের করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছেন। বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট ও আগের সার্স (SARS) প্রাদুর্ভাব গবেষণার প্রথম সারির গবেষক শি ঝেঙলি, এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সম্ভাব্যতা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিলেন। একারণে তিনি ল্যাব রেকর্ড যাচাই করে দেখেছেন যে কোনো ভুল আদৌ হয়েছিল কিনা। তিনি জেনেটিক সিকুয়েন্সিংয়ের মাধম্যে দেখিয়েছেন যে নতুন সার্স-কোভ-২ করোনাভাইরাস (SARS-CoV-2 Corona Virus) এবং উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে গবেষণা করা ভাইরাসের সঙ্গে কোনো জেনেটিক মিল নেই।
কভিডের প্রাদুর্ভাবের এবং বাঁদুড়ের করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণারত চীনের শীর্ষস্থানীয় ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের অবস্থান কাকতালীয়ভাবে একই স্থানে হওয়াতে এই গুজব ছড়াতে দেরি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইংরেজী সংবাদপত্র ‘এপোক টাইমস’ (Epoch Times) এই ধারণাটি নিয়ে প্রচার চালাচ্ছিল। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) দ্বারা নিপীড়িত হওয়া ‘ফালুন গং’ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে এপোক টাইমস’র সম্পৃক্ততা রয়েছে। এপোক টাইমস তার সমস্ত ডকুমেন্টারিতে কভিডকে ‘সিসিপি ভাইরাস (CCP Virus)’ বলার জন্য জোর দিয়ে প্রচার চালাচ্ছিল । ওয়াশিংটন পোস্ট, টাইমস (যুক্তরাজ্য) এবং মূলধারার অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম এই তত্ত্বকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করেছে।
জৈব অস্ত্র হিসেবে কভিড তৈরি হয়েছিল
আরেকটি মুখরোচক গুজব হলো করোনা ভাইরাস ল্যাব থেকে দুর্ঘটনাবশত ছড়ায়নি বরং ইচ্ছাকৃতভাবে চীনা বিজ্ঞানীরা একটি বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার বা জৈব অস্ত্র হিসেবে এটি তৈরি করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক জনমত জরিপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দশ জনের মধ্যে তিনজন বিশ্বাস করেন কভিড-১৯ ল্যাবরেটরিতেই তৈরি করা হয়েছিল। ২৩ শতাংশ বিশ্বাস করেন এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হয়েছিল এবং ৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন এটি ছিল দুর্ঘটনা।
ডানপন্থি মার্কিন রাজনীতিতে বিশেষ জনপ্রিয় এই তত্ত্বটি মনে করে, চীনারা ভাইরাসটি তৈরি করেছিল । মার্কিন সিনেটর টম কটনের (রিপাবলিকান, আরকানসাস) বদৌলতে তত্ত্বটি মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এই তত্ত্বকে ওয়াশিংটন এক্সামিনারে (অত্যন্ত রক্ষণশীল সংবাদ মাধ্যম) প্রথম প্রকাশ করেছিলেন যেখানে উল্লেখ করেন, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি ‘বেইজিংয়ের গোপন বায়ো-ওয়ারফেয়ার প্রোগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট’।
জেনেটিক সিকুয়েন্সিং প্রযুক্তির কল্যাণে দেখা যায়, সার্স-সিওভি-২ ভাইরাসটি বাঁদুড় থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে এসেছে। ফলে এই তত্ত্বটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এক্সামিন পত্রিকা এরপর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা স্বীকার করে নেয় এবং তাদের প্রকাশিত সংবাদকে ‘সম্ভবত মিথ্যা’ বলে দায় স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে প্রকাশিত খবরের সংশোধনী প্রকাশ করে ।
মার্কিন সেনারা চীনে করোনাভাইরাস এনেছে
চীন-বিরোধী গুজবের বিপরীতে চীন সরকার নিজস্ব একটি তত্ত্ব বা কন্সপিরেসি থিওরি প্রকাশ করে সাড়া ফেলে দিয়েছিল, যেখানে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রেকে দায়ী করা হয়েছিল।
ধারণাটি প্রাথমিকভাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝা লিজিয়ান দিয়েছিলেন। তিনি টুইটারে বলেছিলেন, ‘মার্কিন সেনারা এই ভাইরাসটি উহানে এনেছে, এমনটা হওয়া সম্ভব।’ ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদ অনুসারে কিছু থিওরি চীনে ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। তার একটি হলো, মার্কিন সামরিক কর্মীরা গত অক্টোবরে উহানে অনুষ্ঠিত সামরিক ওয়ার্ল্ড গেমস-২০১৯ এ অংশ নেয়ার সময় ভাইরাসটি নিয়ে এসেছিল। চীনের একটি বার্তা সংস্থা, আটলান্টিক সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, এই কন্সপিরেসি থিওরি এবং ‘ইউএসএ ভাইরাস (USA-Virus)’ নামকরণের প্রচেষ্টা ছিল একটি ‘বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাল’ – যা চীনে বা স্থানীয়ভাবে মিথ্যা প্রচারণার জন্য ঠিক ছিল, কিন্তু বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি।
জিএমওকে কোনোভাবে দোষ দেয়া
জেনেটিক্যালি মডিফাইড ফসল কন্সপিরেসি থিওরির শিকার বা বছরের পর বছর ধরে ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের লক্ষ্য হিসেবে কাজ করেছে। তাই জিএমওকে সম্পৃক্ত করে কভিড-১৯ মহামারীর জন্য দায়ী করা গুজবে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। মার্চের শুরুর দিকে, ইতালির অ্যাটর্নি ফ্রান্সেস্কো বিলোটা এল ‘ম্যানিফেস্টো’তে প্রকাশিত প্রবন্ধে উদ্ভট ধারণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, জিএম ফসলের মাধ্যমে জেনেটিক দূষণের ফলে পরিবেশগত ‘ভারসাম্যহীনতার’ কারণে ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে। আশ্চর্যজনকভাবে জিএমওবিরোধী কর্মীরা কভিড-১৯ এর জন্যে আধুনিক কৃষিকেও দোষারোপ করার চেষ্টা করেছেন। আমরা এরই মধ্যে জানি যে ইবোলা, এইচআইভি এবং আরও অনেক ভাইরাসের মত এই ভাইরাসটিও মানুষের আদিম অভ্যাস যেমন বন্যপ্রাণীদের বন্দী এবং হত্যা করার মতো কার্যকলাপ থেকে ছড়ায়।
মজার বিষয় এই যে, ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরির সমাধান হিসেবে জিএমও প্রযুক্তির অবদান অস্বীকার করা যায় না। চলমান ৭০টি ভ্যাকসিন প্রকল্পের মধ্যে কোনও একটি সফল হলে সেটি-ই হবে কভিড থেকে বিশ্বকে মুক্ত করার কার্যকরী উপায়।
উল্লেখ্য, ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরিতে জেনেটিক মডিফিকেশনে (জিন প্রকৌশল) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। জিএমও বিশ্বকে কভিডের অভিশাপ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করলে, সম্ভবত জিএমও বিরোধীরা তাদের মিথ্যাচার এবং আতঙ্ক ছড়ানো বন্ধ করবে।

