করোনার প্রভাবে ২ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল-স্থগিত


garments#paperslife

করোনাভাইরাসের কারণে একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত দিচ্ছেন পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রেতারা। এ পরিস্থিতিতে নতুন ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন না ক্রেতারা। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্যমতে ২০ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে।

গতকাল (১৭ মার্চ) বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে, সর্বশেষ ৪ ঘণ্টায় বিজিএমইএর সদস্য ২০ প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৭২ লাখ ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। স্থগিত হয়েছে ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ডলারের ক্রয়াদেশ।

ভুক্তভোগী ২০ প্রতিষ্ঠানের কারখানাগুলোর মধ্যে আছে আমান গ্রাফিক্স অ্যান্ড ডিজাইনস, এসকোয়্যার নিট কম্পোজিট, আমান নিটিং, খানটেক্স ফ্যাশনস লিমিটেড, মেহনাজ স্টাইলস অ্যান্ড ক্রাফট, বিটপি, ডেকো লিগ্যাসি গ্রুপ, এসএফ ডেনিম, ভার্সেটাইল অ্যাটায়ার, অ্যামেজিং ফ্যাশনস, শাইনেস্ট অ্যাপারেলস, এপেক্স হোল্ডিংস, রুমানা ফ্যাশন, স্কাইলাইন গার্মেন্টস, ক্রসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ, নিট এশিয়া, তুর্কি ফ্যাশনস, কে গার্মেন্টস, সালেক টেক্সটাইল, আলটিমেট ফ্যাশন, ডেনিম এশিয়া, মোটেক্স এপিএস ও মোটেক্স ফ্যাশন।

করোনার প্রভাবে প্রথমে কাঁচামাল সরবরাহ সংকটে পড়তে হয়েছিল পোশাক খাতকে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চীননির্ভর কাঁচামাল আসতে পারছিল না। পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রেতারা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় চাহিদা কমে বিক্রি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিতাদেশ দিচ্ছেন ক্রেতারা। এ প্রেক্ষাপটে বিরূপ পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিলের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক এ বিষয়ে বলেন, ক্রেতারা যখন বলে আপনারা কাপড় কাটবেন না, তখন ওই কাপড়ের আর কোনো ভবিষ্যৎ থাকে না। এ কাপড় কবে নেবে সেটাও জানি না আমরা। এসব কাপড়ের বিপরীতে ক্রয়াদেশ দেয়ার কথা এপ্রিল-মে মাসে। কিন্তু ক্রেতারা এখন কোনোটাই প্লেস করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে আমরা এখন কোথায় দাঁড়াব? আমাদের এত কর্মী, সামনে ঈদ আছে, বোনাস আছে।

ক্রেতারা আমাদেরকে বলছেন পণ্য গুদামজাত করে রাখতে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এবার রফতানি অনেক কমে যাবে।

পোশাক রফতানি-কারকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে আমরা এখন মারাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি। ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছে যার প্রভাবে উৎপাদন-মুখী ইউনিটগুলো আর্থিকভাবে ভঙ্গুর হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।