কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মমিনুল ইসলাম (১৪) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে ওই কিশোরকে রাজীবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হলে নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই তার লাশ ফেরত পাঠায় স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে ওই দিনই পারিবারিকভাবে ওই কিশোরের লাশ দাফন করা হয়।
নিহত কিশোর উপজেলার জাওনিয়ার চর লম্বাপাড়া গ্রামের জাবেদ আলীর পুত্র।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেলওয়ার হোসেন জানান, মৃত কিশোরের পরিবার জানিয়েছে তার এজমা ছিল। পরে সে জ্বর, বমি ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারা যায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার পরিবার তথ্য গোপন করায় নমনুা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভোগার পর ডায়রিয়া শুরু হলে ঐ কিশোরকে মঙ্গলবার বিকেলে রাজীবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথে সে মারা যায়। স্থানীয়দের দাবী মমিনুল করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করলেও তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।
অন্যদিকে ঐ কিশোরের মৃত্যুর পর তার চাচি সাবিনার (২৮) ডায়রিয়া ও চাচাতো বোনের জ্বর দেখা দিলে তাদেরকে রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও ওই কিশোরের বাড়িতে আরও দুই শিশু ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজীবপুর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানবিদ রোকনুজ্জামান রাজু।
ওই কিশোরের মৃত্যুর পর তার চাচিসহ পরিবারের চার সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেলওয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে।
করোনা সন্দেহে মারা যাওয়ার পরও নমুনা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ওই সময় নমুনা সংগ্রহ করবো কিভাবে? হুট করে কুড়িগ্রামে স্যাম্পল পাঠাইতে পারবেন না, নৌকা নাই। ওই সময় তার পরিবার তথ্য গোপন করায় ওই কিশোরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। তবে তার পরিবারের চার সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
রাজীবপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান জানান, করোনা সন্দেহে কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই ওই পরিবারসহ আশে পাশের আরও কয়েকটি পরিবারকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই কিশোরের পরিবারের চার সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে দুই সদস্যকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে।
মৃত কিশোরের নমুনা সংগ্রহ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘কেন এমনটা করা হলো সে ব্যাপারে সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হবে।’
পেপার’স লাইফ/জেলা প্রতিনিধি/চন্দন কুমার সরকার

