চলমান করোনা মোকাবেলায় লকডাউন অধিক কার্যকর বলে মতামত জানিয়েছেন ঢাকায় সফররত চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসগণ।
নিজেদের দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা বলেন, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার এখন পর্যন্ত বড় উপায় হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। এজন্য জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ সভায় তারা এ মত জানান। ঢামেকের প্রশাসনিক ব্লকের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সভা চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। এসময় করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসহ চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মারুফ বলেন, চীনের চিকিৎসকরা জানান কোভিড-১৯ এর কোন ওষুধ নেই। সাপোর্টিভ চিকিৎসাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া তারা হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধের দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্লাজমা সম্পর্কে চীনের চিকিৎসকরা জানান, তারা করোনা রোগীদের দেহে গণহারে প্লাজমা ব্যবহার করেনি। শুধুমাত্র উহানে সিভিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবহার করা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের বিষয়ে চীনের বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে জানান, তাদের দেশে ভ্যাক্সিনের ট্রায়াল তৃতীয় ধাপে রয়েছে।
জানা যায়, স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে সঠিক নিয়মে পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পরা এবং খোলার দিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনের চিকিৎসকরা। এছাড়া দ্রুত টেস্ট, আইসোলেশন, চিকিৎসা, এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা জানান।
চীনের ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে ছিলেন ডা. লি ওয়েনশিউর। এসময় ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ, করোনা ইউনিটের চিকিৎসকসহ হাসপাতাল প্রশাসন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চীনের চিকিৎসকরা ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগীদের খোঁজখবর নেন।
গত ৮ জুন ঢাকায় আসে চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দলটি। তারা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো এবং চিকিৎসার বিষয়ে ধারণা দিতে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলের অধিকাংশই চীনের হাইনান প্রদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

