রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে নৌকাডুবির ঘটনায় ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার সকালে কাপ্তাই লেকে চট্টগ্রামের বন্দর টিলা থেকে একদল পর্যটক বেড়াতে আসেন। এসময় তারা নৌকায় করে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু থেকে সুভলং যাওয়ার পথে ডিসি বাংলো এলাকায় ডুবে যায়। এ সময় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ছাড়াও স্থানীয় ব্যক্তিরাও উদ্ধারে অংশ নেন।
আরও জানা যায়, কাপ্তাই হ্রদে পাঁচজন ও কর্ণফুলী নদীতে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কাপ্তাইয়ের দুর্ঘটনায় আরও দুজন নিখোঁজ আছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন টুম্পা মজুমদার (৩০) ও বিজয় দে (৫)।
কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ তিনজনের মধ্যে দেবলীনা দে নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার কারণে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
কাপ্তাই হ্রদের দুর্ঘটনায় যারা মারা গেছেন, তারা হচ্ছেন রিনা আক্তার (৩২), শিলা আক্তার (২৭), আসমা আক্তার (২২) ও আফরোজা আক্তার (১৪)। বাকি একজনের নাম পাওয়া যায়নি। কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবিতে মারা গেছে দেবলীনা দে (১০)। সবাই চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটিতে ছুটিতে ঘুরতে আসেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার (কর্মকর্তা) লিমন বোস বলেন, জেলা প্রশাসক বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। প্রথমে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়, পরে আরও দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উক্ত ঘটনার পর জেলা প্রশাসন সম্মেলনকক্ষে মতবিনিময় সভায় কাপ্তাই হ্রদে তিনটি নির্দেশনা বাধ্যতামূলক জারি করা ঞয়। সেগুলো হলো পর্যটকবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কোনো ছাদ দেওয়া যাবে না, পর্যটকদের লাইভ জ্যাকেট ব্যবহার করতে হবে ও নৌকায় লাইসেন্স থাকতে হবে। নৌকামালিকদের এ নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ।

