নাশকতার অভিযোগে করা কুমিল্লার দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাই কোর্ট। নড়াইলের মানহানির মামলাটিতে জেলার আদালতে খালেদার জামিনের আবেদন রয়েছে। সেখানে কী হয়েছে, তা জানতে চেয়ে যথাযথ উত্তর না পেয়ে আবেদনটি ‘নট প্লেজড (উপস্থাপিত হয়নি)’ বলে রেখে দিয়েছে হাই কোর্ট।
আজ সোমবার এই তিনটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিনের আবেদনে আদেশের দিন ঠিক ছিল বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চে।
আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের এ দিন ধার্য করেন।
খালেদার আইনজীবীরা জানান, নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও বাস পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় করা দুটি মামলায় এবং মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা এক মামলায় ২০ মে জামিন চেয়ে খালেদা জিয়া আবেদন করেন। এর মধ্যে বাস পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় জামিন আবেদনের ওপর গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে শুনানি শেষ হয়। এরপর আজ অপর দুটি আবেদনের ওপর শুনানি হয়।
আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও মো. বশির উল্লাহ। শুনানি শেষে মো. বশির উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেছেন, আগে একটি ও আজ দুটি জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। তিন আবেদনের ওপর কাল সোমবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
অবরোধের মধ্যে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হন। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান পরদিন খালেদাকে হুকুমের আসামি করে মামলাটি করেন। কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলাটিও নাশকতা নিয়ে।
অবরোধের মধ্যে ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামে একটি কভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিনই চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তাতে খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়।
নড়াইলের আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয় শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করার অভিযোগে। নড়াইল জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ মামলা দায়ের করেন।
