কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম



ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমে যাওয়ায় দিনাজপুরের হিলিতে পণ্যটির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এতে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে (ট্রাকসেল) পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বন্দর দিয়ে এক সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন ৩৫-৪০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। বর্তমানে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৮-১০ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে এ বন্দর দিয়ে ৩২৪টি ট্রাকে ৬ হাজার ৯৪০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ৫২৫টি ট্রাকে ১১ হাজার ২৪৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। আর জানুয়ারিতে এ বন্দর দিয়ে ৪২৩টি ট্রাকে ৮ হাজার ৩৩৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।
স্থলবন্দর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে (ট্রাকসেল) ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ প্রকারভেদে প্রতি কেজি ২২-২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ পূর্বে এসব পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৭-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। হিলি বাজারে আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫-৩০ টাকায়। এক সপ্তাহ পূর্বে এসব পেঁয়াজ ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ হিসাবে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে দেশী পেঁয়াজের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ পেঁয়াজ বর্তমানে কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কিছুদিন আগে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছিল। তবে দাম এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। মূলত ভারত থেকে থেকে পেঁয়াজ আসছে কম। এতে সরবরাহ সংকটে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ হারুন ও পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, সম্প্রতি ভারতের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ার কারণে দেশেও আমদানি বেড়েছিল। একই সঙ্গে মেহেরপুর ও পাবনা অঞ্চলে নতুন জাতের পেঁয়াজ সংগ্রহ শুরু হওয়ায় বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছিল। এতে বাজারে পণ্যটির দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছিলেন আমদানিকারকরা। এ কারণে তারা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতে সরবরাহ সংকটে পেঁয়াজের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।