কেজিতে ৭ টাকা বেড়েছে চায়ের দাম




চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিলামে চায়ের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। টানা কয়েকটি নিলামের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২১তম নিলামেও প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম আগের নিলামের তুলনায় ৭ টাকা বেড়েছে। মূলত চলতি মৌসুমে দেশের বাগানগুলো থেকে চায়ের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও বেচাকেনা বেশি হওয়ায় পণ্যটির দাম বাড়তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভালো মানের চা সরবরাহও বেড়েছে। ফলে চায়ের বাজারে চাঙ্গাভাব বজায় রয়েছে।
বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক নিলামে প্রতি কেজি চা বিক্রি হয় ২২৫ টাকায়, যা আগের নিলামের তুলনায় ৭ টাকা বেশি। ২০তম নিলামে প্রতি কেজি চা ২১৮ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। নিলামে চায়ের দামে এ ঊর্ধ্বমুখিতা বেশ কয়েকটি নিলাম ধরেই অব্যাহত আছে। চলতি বছরের ১৫তম নিলামে প্রতি কেজি চা বিক্রি হয় ২০২ টাকায়। এরপর ১৬তম নিলামে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০৪ টাকায়। এর পরের দুই নিলামে (১৭ ও ১৮তম নিলাম) পণ্যটি বিক্রি হয় যথাক্রমে ২০৫ ও ২০৯ টাকায়। ১৯তম নিলামে প্রতি কেজি চায়ের দাম আরো বেড়ে দাঁড়ায় ২১৬ টাকায়। সে হিসাবে সাত নিলামের ব্যবধানে প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম বেড়েছে ২৩ টাকা।
সর্বশেষ নিলামে দামি ও ভালো মানের চা বিক্রিতে বরাবরের মতো এগিয়ে ছিল সিলেটের মধুপুর চা বাগান। এ নিলামে দামি ও ভালো মানের ১০ লট চা সরবরাহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে মধুপুর বাগান থেকে সরবরাহ করা হয় সাত লট চা। বাংলাদেশ টি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), দারাগাঁও ও আমরাইল বাগান থেকে বাকি তিন লট চা সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিটিআরআই থেকে সরবরাহ করা চা সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়। প্রতি কেজি ৪৭৫ টাকা দরে পাঁচ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ৫৫ কেজি) চা বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি।
নিলাম প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নিলামে ৪৭ হাজার ১৭৫ প্যাকেটে মোট ২৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৬৪ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে ২২ লাখ ৮ হাজার ১৯৬ কেজি দানাদার ও ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬৮ কেজি গুঁড়া চা। এক বছর আগের একই নিলামে চা তোলা হয়েছিল ২৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৭৪ কেজি। অর্থাত্ পূর্ববর্তী বছরের একই নিলামের চেয়ে প্রায় দুই লাখ কেজি বাড়তি চা সরবরাহ করা হয়েছে। এ নিলামে পণ্যটির দাম বাড়লেও বেচাকেনা বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আসন্ন শীত মৌসুমে দেশে চায়ের ব্যবহার তুলনামূলক বেড়ে যাবে। বিষয়টি মাথায় রেখেই বাড়তি চাহিদা মোকাবেলায় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো শীতের আগেই বেশি পরিমাণে চা কিনছে। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যটির আন্তর্জাতিক নিলামে। এদিকে আগামী ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ২২তম আন্তর্জাতিক নিলাম। এ নিলামে ৫০ হাজার ৮৪৮ প্যাকেটে ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৩ কেজি চা বিক্রির জন্য তোলা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের নিলামগুলোর মধ্যে কোনো একক নিলামে এটাই চায়ের সর্বোচ্চ সরবরাহ।
২০১৬ সালে দেশে প্রায় সাড়ে আট কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। তবে পণ্যটির চাহিদা ছিল ৮ কোটি ২০ লাখ কেজি। ফলে বাড়তি চা রফতানি করা হয়েছে। চলতি বছর দেশীয় উৎপাদনকারীদের উত্সাহ দিতে ও চা আমদানি নিরুত্সাহিত করতে বাড়তি শুল্কারোপ করেছে সরকার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে চা আমদানিতে ট্যারিফ মূল্য ১ ডলার ৬০ সেন্ট বাড়িয়ে ২ ডলার ৫০ সেন্ট ও সম্পূরক শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর প্রভাব পড়ে পণ্যটির অভ্যন্তরীণ বাজারে। আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কারোপের ফলে নিলামে চায়ের চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়ে যায়। একই সঙ্গে দেশে দামি ও ভালো মানের চা উৎপাদন বাড়ছে। এর জের ধরে আগামী দিনগুলোয় দেশের চা খাত বিকাশের সম্ভাবনা দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে এজন্য পানীয় পণ্যটির সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দামি ও ভালো মানের চা উৎপাদনে জোর দেয়া জরুরি।