চারটি গুলিতেই সব স্বপ্ন শেষ আশফাকের


চারটি গুলিতেই সব স্বপ্ন শেষ আশফাকের

কিছু পেমেন্ট পাওয়া বাকি রয়েছে। সেই টাকাগুলি হাতে এলেই ঘুরতে যাব। সদ্য বিয়ে করা স্ত্রীকে বলেছিল আমার ভাইপো। এইসব জানায় নিহত আশফাকের চাচা। তিনি বলেন,

মাত্র গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়েছিল ওর। তা নিয়ে আমরা সবাই কত পিছনে লাগলাম ওর। ভ্যালেন্টাইনস ডে’র দিন বিয়ে করছিস! এমন সৌভাগ্য কতজনের হয়! ভারী লজ্জা পেয়েছিল ছেলেটা। অথচ কী কপাল দেখুন। বিয়ের পর বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিবর্তে ২২ বছরের ছেলেটা শুয়ে রয়েছে হাসপাতালের মর্গে। গুলিতে ঝাঁঝরা। চারটি গুলি লেগেছিল ওর শরীরে। তিনটি বুকে, একটি ঘাড়ে। আমরা যেখানে থাকি, সেই মুস্তাফাবাদে গোলমালের আঁচ মিলেছিল রবিবার থেকেই।

আমরা বারবার বলেছিলাম, গণ্ডগোলের মধ্যে বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। ওর স্ত্রীও একই কথা বলেছিল। আমাদের কথা না শুনিস, অন্তত বউটার কথা তো একবার ভাববি! শুনল না। জেদ করে বেরল। আর ফিরে এল না।

এসি সারাইয়ের কাজ করত আশফাক। সেরকম বড়সড় অর্ডার এলে গিজারও সারাই করে দিত। গতকাল আমাদের বলল, কাছেই একটি বাড়ি থেকে এসি সারাইয়ের অর্ডার এসেছে। বেশিক্ষণের কাজ নয়। তাড়াতাড়ি করে দিয়ে চলে আসবে। আসলে নতুন বিয়ে করেছিল তো! টাকাপয়সা জমানোর দিকে ঝুঁকছিল। যেকোনও অর্ডার এলেই তাই ছুটে যেত। ওই বাড়িতে এসি সারাইয়ের পর ফোনও করেছিল বাড়িতে। জানিয়েছিল, কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরছে। আশপাশে কোথাও গোলমালের কথাও বলছিল যেন। তারপর আর কোনও কথা হয়নি।

অনেক রাতেও আশফাক বাড়ি না ফেরায় আমরা খোঁজখবর শুরু করি। তখনই খবর পাই, বাড়ি ফেরার পথেই গোলমালের মাঝে পড়ে ওর নাকি অনেকগুলো গুলি লেগেছে শরীরে। ওরা চার ভাই। আশফাক ছিল মেজো ভাই। আমার দাদা-বৌদি রয়েছে। ওর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী রয়েছে। কীভাবে সামলাব এদের? আমাদের গ্রামের বাড়ি বুলন্দশহরে। আশফাকের বিয়েতে সপরিবারে সেখানে যাওয়া হয়েছিল। এখন কি এইভাবে মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার কথা আমাদের? বাড়ির ছেলের বিয়ের পর কত হইচই হওয়ার কথা পরিবারে! বুলন্দশহরে যখন গিয়েছিলাম, বাড়ির লোকেরা আরও কিছুদিন থেকে যেতে বলেছিলেন। কাজের ক্ষতি হবে ভেবে আশফাক রাজি হয়নি। আমরাও বিশেষ জোর করিনি। কারণ আমাদেরও এদিকেই কাজকারবার রয়েছে। কেন যে রাজি হলাম না?
(অনুলিখন: দিব্যেন্দু বিশ্বাস) সংবাদ বর্তমান