জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাতা কলমে দুই জন ড্রাইভার থাকলেও বর্তমানে ড্রাইভার শূন্য রয়েছে। যার ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সাধারণ রোগীরা।
জীবননগর উপজেলায় মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সার্বিক খোজ খবর নেওয়া ও তাদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় মানুষের জরুরী ভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও গত দুই দিন যাবৎ ড্রাইভার না থাকায় করোনাই আক্রান্ত রোগীরা ডাক্তারি সেবা থেকে পিছিয়ে পড়েছেন।
তা ছাড়া গত সোমবার জীবননগর পৌর সভার অফিস সহকারীর শরীরে করোনা সনাক্ত হওয়ার ফলে পৌর সভার সকল জনপ্রতিনিধি ও পৌর সভায় কর্মরত ২১ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে কিট না থাকায় শুধুমাত্র পৌর সভায় কর্মরত ২১ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং বাকি কাউন্সিলরদের বুধবার সকাল ৯টার সময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষার জন্য সময় দেওয়া হয়।
কিন্তু জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ড্রাইভার দ্বানেজ না থাকায় চুয়াডাঙ্গা থেকে কিট আসতে দেরি হয়। কাউন্সিলরগন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বসে থেকেও কিট না আসায় পরীক্ষা না করেই সকলে চলে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলার অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স আছে কিন্তু ড্রাইভার নেই ,ড্রাইভার নাকি সিভিল সার্জন নিয়ে গেছে এটা আবার কি ধরনের কাজ জীবননগর হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ এখানে সব সময় এ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন সেখানে যদি শুধু গাড়ি থাকে ড্রাইভার না থাকে তা হলে কি ভাবে চলবে।
আর আমাদের যে সময় দিয়েছে আমরা সে সময় চলে এসেছি কিন্তু চুয়াডাঙ্গা থেকে পরীক্ষার জন্য যে কিট দেওয়ার কথা সেটি পাঠাইনি দীর্ঘ সময় বসে থেকে আমাদের চলে আসতে হয়। আর কি কোন হাসপাতালে ড্রাইভার ছিল না যে জীবননগর থেকে দুই জন ড্রাইভারকে সিভিল সার্জন তিনার কাজে ব্যবহার করবে । তা হলে এখানে যদি কোন জরুরী ভাবে রোগীদের এ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হয় তা হলে তারা কি করবে?
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা পঃপঃ কর্মকর্তার গাড়ির জন্য আমিনুর নামের একজন ড্রাইভার থাকলেও তিনি গত তিন মাস যাবৎ চুয়াডাঙ্গা সদরে রয়েছেন এবং জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার দ্বানেজ গত দুই দিন যাবৎ চুয়াডাঙ্গা সদরে রয়েছেন যার ফলে হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স পড়ে থাকলেও ড্রাইভার সংকটে রয়েছেন ।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ জুলিয়াট পারউইন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই জন ড্রাইভার ছিল কিন্তু গত মর্চ মাস থেকে আমার গাড়ির ড্রাইভার আমিনুর চুয়াডাঙ্গাতে রয়েছেন এবং গত দুই দিন যাবৎ এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার দ্বানেজ ও চুয়াডাঙ্গাতে রয়েছে যার ফলে একটু সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
তবে বিষয়টি আমি সিভিল সার্জনকে বলেছে আশা করি খুব শীঘ্রই এর সমাধান হয়ে যাবে । সিভিল সার্জন ডাঃ এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ড্রাইভার সংকট নয় তাদেরকে বিশেষ প্রয়োজনে চুয়াডাঙ্গাতে আনা হয়েছে । সাময়িক ভাবে একটু সমস্যা হয়েছে তা দূরত্ব সমাধান করা হবে ।
পেপার’স লাইফ/জীবননগর প্রতিনিধি/মোঃ মিঠুন মাহমুদ

