সৌন্দর্য শব্দটা এমন একটা শব্দ যেইটা যুগযুগান্তর ধরে আমাদের সমাজে চলে এসেছে কখনো কবির কবিতায়, কখনো উপন্যাসের পাতায় আবার কখনো কখনো বাস্তবতার দেখায়। এই সৌন্দর্য নিয়ে কতো আলোচনা সমালোচনা, কতো কাব্যিক রচনা।
এই সৌন্দর্য নিয়ে কথা শুনতে হয়নি এমন কোনো মানুষ নেই বললেই চলে কারো ক্ষেত্রে বয়ে এনেছে অনাবিল আনন্দ আবার কারো ক্ষেত্রে বুক ভাঙা কষ্টের কান্না। তাহলে কি সৌন্দর্য কি শুধু আমাদের বাহ্যিক দিক যা শুধুই আমরা দৃষ্টিপাত করি?
আসলে নাহ আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা শুধু মাত্র এই সৌন্দর্যের কারণে অনেকে হীনমন্যতায় ভুগে। আজকের লিখাটা শুধু মাত্র তাদের জন্য যারা শুধু মাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য কে দিয়ে সৌন্দর্যের মাপকাঠি বিবেচনা করে।
“হেলেন হান্ট” এর মতে, “সৌন্দর্য যে ক্ষনস্থায়ী তা ফুলকে দেখলেই উপলব্ধি করা যায়”।
ক্ষনস্থায়ীর জন্য বড়াই করেতো আসলে কোনো লাভ নেই আমাদের জীবনটা কিন্তু একটাই। আমরা সবাই জীবনের কোনোনা কোনো এক সময় ভাবতে থাকি যে আসলে আমরা অনেক অসুন্দর। এইটা আসলে সবসময় যে নিজের দ্বারা উপলব্ধি হয় তা না অনেক সময় সমাজের কিছু মানুষের দ্বারা আমাদের বুঝানো হয় যে আমরা অসুন্দর।
অনেকে ছোটো থেকে এই অনুভূতি পেয়ে থাকে কেউ কেউ অনেক কাছের মানুষ দ্বারা অপমানিত হতে থাকে। অনেকে বাহ্যিক রংয়ের জন্য আবার অনেকে বডি শেমিং এর জন্য। এই উপলব্ধি গুলোর জন্য একসময় তাদের কনফিডেন্স লেবেল কমতে থাকে।এখন অনেকে মনে করতে পারে যে তাহলে কি সৌন্দর্য কনফিডেন্স বাড়ায় তাহলে বলবো হ্যা অবশ্যই বাড়ায় কিন্তু তারমানে এইনা যে আপনার চামড়া সাদা তাই আপনার কনফিডেন্স অনেক বেশি থাকবে।
“হুমায়ুন আজাদ” এর ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়——- “সৌন্দর্য যেভাবেই থাকে সেভাবেই সুন্দর ”
আসলেই তাই কিন্তু সৌন্দর্যে কালো কি আর সাদা কি সে তো শুধুই সুন্দর নামে অভিভূত। আমরা প্রত্যেকে আসলে অন্যের চোখে সুন্দর হতে অভ্যস্ত কিন্তু নিজের ঘরে রাখা আয়নাটার দিকে তাকিয়ে আসলে কেউ কখনো নিজেকে বলিনা যে আমি সুন্দর।
সে আমি যেমনই হয়ে থাকি আমি কালো, বেটে, শ্যামলা, সাদা, লম্বা, চিকন, মোটা হতে পারে আমার মুখে অনেক দাগ হতে পারে আমার এবড়োথেবড়ো দাঁত, থাকতে পারে আমার মাথায় অনেক কম চুল থাকতে পারে বোচা নাক তবুও আমি সুন্দর।
প্রতিদিন আয়নাকে জানান দিতে থাকুন আপনি আমি আমরা প্রতিটি মানুষ সুন্দর। অন্যের চোখে সুন্দর হওয়ার আগে নিজের চোখে একবার সুন্দর হয়ে দেখুন আয়নার সামনে গিয়ে একবার নিজের মিষ্টি ভূবন ভুলানো হাসিটার সৌন্দর্যটা একবার উপলব্ধি করুন।
দেখবেন এই পৃথিবীতে আপনার চেয়ে সুন্দর কনফিডেন্স মানুষ আর একজন কে খুঁজে পাবেননা সাথে নিজের মনের সৌন্দর্য কে আলোকিত করুন, তখন আশে পাশের কটু কথার দ্বারা আর কষ্ট পাবেন না বরং মনের দিক দিয়ে এই অসুন্দর ব্যাক্তি গুলোর জন্য তখন কষ্ট হবে। সৌন্দর্য হোক ভোরের আলোর মতো নিষ্পাপ, পবিত্র, যে আলো আমাদের বাহ্যিক না শুধু মন টাকেও যেনো পবিত্র করে।
তাই পরিশেষে বলতে চাই–––––
“সুন্দর হোক পৃথিবীর প্রতিটি মন
সুন্দর হোক পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ
সুন্দর থাকুক তাদের মুখের হাসি
সুন্দর থাকুক তাদের আয়নাদৃষ্টি “।
লেখিকা : ফয়জুন নেছা তিথি
ফার্মাসিস্ট, এম ফার্ম (ছাত্রী)
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)

