আন্তর্জাতিক বাজারে নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজার। গত বুধবার সব বাজারেই পণ্যটির দাম কমেছে।
নিউইয়র্ক মাকেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। দিনশেষে পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩৭ ডলার কমে ৬১ দশমিক ৬৪ ডলারে লেনদেন হয়। গত মাসে পণ্যটির দাম কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। গত আগস্টের পর এই প্রথম মাস বিবেচনায় পণ্যটির দাম কমেছে।
আইসিইতে এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে ব্রেন্টের দাম কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। দিন শেষে পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ সেন্ট কমে ৬৫ দশমিক ৭৮ ডলারে লেনদেন হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রেন্টের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। গত বছরের জুনের পর এই প্রথম মাস বিবেচনায় পণ্যটির দাম কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ ৩০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের জরিপে দেখা গেছে, এ সময়ে পণ্যটির সরবরাহ ২১ ব্যারেল বাড়তে পারে বলে প্রাক্কলন করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট সরবরাহ ৯ লাখ ৩৩ ব্যারেল বাড়তে পারে বলে জানিয়েছিল।
এডওয়ার্ড জোনসের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ইয়ংবার্গ বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলেও পণ্যের মজুদ বৃদ্ধির হার মৌসুমের গড়ের তুলনায় কম।
ইআইএ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক উৎপাদন ১৩ হাজার ব্যারেল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ৮৩ হাজার ব্যারেল। দেশটিতে জ্বালানি তেলের এ উৎপাদন সাপ্তাহিক বিবেচনায় ১৯৮৩ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।
জন ম্যাকালুসো নামের এক বিশেষজ্ঞ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন আরো বেড়েছে। দেশটি জ্বালানি তেল উৎপাদনে রাশিয়াকে টপকে যাওয়ার পথেই রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদকের স্থান দখল করে নেবে।
মূলত উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলের কারণে শেলের (পাথরের খাঁজে আটকে থাকা খনিজ তেল) উৎপাদন বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির সুবাদে দেশটি আমদানির বদলে উল্টো জ্বালানি তেল রফতানি করছে।
