জনমত জরিপেও ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে বাইডেন। বৃহস্পতিবার রেজিস্টার্ড ভোটারের মধ্যে এই জরিপ চালিয়েছে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত ফক্স নিউজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তুলনায় ৭ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী।
নির্বাচনের ঠিক ৮১ দিন আগে ১২ ও ১৩ আগস্ট পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। আজই যদি নির্বাচন হয় তাহলে ৪৯ শতাংশ বাইডেনকে ভোট দিতে চেয়েছে। অপরদিকে ৪২ শতাংশ বলেছেন ট্রাম্পের কথা।
করোনা নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের সীমাহীন উদাসীনতায় দেড় লক্ষাধিক আমেরিকানের মৃত্যু এবং ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্স’ আন্দোলনে বাইডেনের সরাসরি সমর্থনের কারণে ভোটারের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে জো বাইডেন।
এজন্য তার পক্ষে সমর্থন দিন-দিনই বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জরিপ পরিচালনাকারীরা।
জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশই ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসেবা নীতির সমালোচনা করেছেন। মাত্র ৪০ শতাংশ ট্রাম্পের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে।
৫৩ শতাংশ বলেছেন যে, ট্রাম্পের উদাসীনতা অথবা মহামারিকে আমলে না নেয়ায় এতগুলো আমেরিকানের প্রাণ গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারের অধিকাংশই মন্তব্য করেছেন, বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে করোনার মতো মহামারি মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম হতেন।
একইভাবে চলমান নানা সমস্যার সমাধান ও ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমেও অনেক ভালো করতেন বাইডেন। এসব ইস্যুতে বাইডেনকে ৪৮ শতাংশ এবং ট্রাম্পকে ৪২ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন।
এক হাজার রেজিস্টার্ড ভোটার অংশ নেন এই জরিপে। তবে জরিপ ফলাফলকে ‘ফেইক’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
গত নির্বাচনের আগেও সবকটি জরিপে হিলারী ক্লিন্টন অনেক এগিয়ে ছিলেন বলে গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার ও প্রকাশের পরও ট্রাম্প জয়ী হওয়ায় রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতারা গণমাধ্যমের জরিপে কান দিচ্ছেন না। যদিও এই জরিপ চালিয়েছে ট্রাম্পের সমর্থক ফক্স নিউজ।
প্রসঙ্গত, জো বাইডেন আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারলে কমলা হ্যারিস তার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করবেন।
কমলা হ্যারিস নিজে এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চেয়েছিলেন; কিন্তু নির্বাচনী প্রতিযোগিতার একপর্যায়ে তিনি সরে দাঁড়ান। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে কমলা হ্যারিসের শক্ত অবস্থানের জন্য বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রানিং মেট হিসেবে কমলা হ্যারিসের নাম ঘোষণা করেন জো বাইডেন। কমলা হ্যারিস হলেন প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ নারী এবং প্রথম কোনো এশিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দ্বিতীয় শীর্ষ পদের নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন।
কমলাকে বাছাই করায় বাইডেনের প্রশংসা করেছেন হিলারি ক্লিনটন-সহ শীর্ষ ডেমোক্রেট নেতারা। প্রশংসার তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

