ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন দুর্গাপূজায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচ্ছিন্ন ঘটনার হাত থেকে বাংলাদেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালীমন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
পূজামণ্ডপে ও মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের তাগিদ দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “যেখানে দুর্গাপূজা হবে, সেখানে সিসি ক্যামেরা বসান। রাতের অন্ধকারে অপকর্ম প্রতিরোধে এটি জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয়, গোয়েন্দারাও বিভিন্ন জায়গায় তৎপর। জেলা প্রশাসকদের হটলাইন চালু রাখতে বলা হয়েছে। আশঙ্কা অনুভব করলে হটলাইনে জানালে তৎক্ষণাৎ সহায়তা পাবেন।” তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে পূজা সুন্দরভাবে সম্পন্নের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় স্থানে অপবিত্রতা সৃষ্টি করার চেষ্টাকারীদের কঠোর ভাষায় নিন্দা করে উপদেষ্টা বলেন, “যারা ধর্মীয় উপাসনালয়ে পাথর নিক্ষেপ করে বা অপবিত্র করে, তারা কালপ্রিয, অপরাধী, তাদের ধর্মীয় পরিচয় নেই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নানা ধর্ম, বর্ণ ও জাতির মধ্যে বৈচিত্র্য আমাদের ঐক্যের ভিত্তি। মসজিদে আজান, মন্দিরে শঙ্খধ্বনি—এই সংহতিতে আমাদের অন্তর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আমি আমার ধর্ম পালন করব, অন্যদেরও নির্বিঘ্নে সুযোগ করে দেব।”
ধর্ম অবমাননার দায় ব্যক্তিগত বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, “অপরাধের জন্য ব্যক্তিই দায়ী, সম্প্রদায় নয়। কেউ অপরাধ করলে আইন হাতে নেওয়া উচিত নয়, তা আইনের শাসন নষ্ট করে। অপরাধী শাস্তি পাবে, আমরা সব সময় সচেতন।” তিনি আরও বলেন, “অতীতেও, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও আমরা মিলেমিশে থাকতে চাই। এ দেশ আমাদের সবার, ধর্মীয় উৎসব ও উপাসনা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাবো।”
সভায় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিতসহ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, নিরাপত্তা বাড়াতে পূজার আগে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ সমন্বয় সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সৌহার্দ্য রক্ষায় সহায়ক হবে।

