শক্তি হারাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। বৃষ্টি ঝরিয়ে এটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী ২ থেমে তিন ঘন্টা পর এটি দুর্বল হয়ে পরবে বলে জানা গেছে।
আম্পান এখন রাজশাহী অঞ্চলে অবস্থান করছে। সারারাত ঝড়ের তাণ্ডবের পর গতি কমে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বাতাসের গতিবেগ এখন ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। এটি আরও উত্তরদিকে সরতে থাকবে। এরপর পাবনা, গাইবান্ধার দিকে যাচ্ছে। এটি স্থল নিম্নচাপ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তর দিকে গিয়ে তার শক্তি হারাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৪টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিমি। বাতাসের গতিবেগ দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন সাগর এলাকায় বায়ুচাপ তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। সাগর উত্তাল রয়েছে।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর এবং চাঁদপুর ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
চট্টগ্রাম ও কক্সাবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘুর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০-১৬০ কিলোমিটার বেড়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

