দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার পুলিশ সদস্য। মারা গেছেন ৫৩ জন। দেশের এই দুর্যোগময় মুহূর্তে জননিরাপত্তা দেওয়া, শৃঙ্খলা রক্ষা, লকডাউন কার্যকর করা, মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি, মাঠপর্যায় থেকে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ সরাসরি তদারকি করছে পুলিশ সদর দপ্তর।
আর এসব কাজে অংশ নিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। শুরুতে বিভিন্ন কারণে সমস্যা হলেও এখন আক্রান্ত পুলিশদের যথাযথ চিকিৎসার জন্য নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ মের পর থেকে পুলিশে সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। সে সময় এক হাজার ৪০০ পুলিশ করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে আড়াই শ বেডের রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে তখন ধারণ ক্ষমতার বেশি করোনা রোগী ভর্তি হয়েছিল।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত মে মাসে এক দিনে প্রায় সাড়ে চার শ পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা ১৩ হাজার ২৪৩ জন। পুলিশের এ-বিষয়ক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত এক হাজার ১৩০ জন কনস্টেবলসহ ৩১১ জন এএসআই, ২৬০ জন এসআই, ৯১ জন ইন্সপেক্টর, ৭৩ জন নায়েক, ৪৭ জন সার্জেন্ট, ২১ জন এডিসি, ১২ জন এসি, দুজন যুগ্ম কমিশনার ও একজন ডিসি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
সার্বিক হিসাবে করোনায় পুলিশের মৃত্যুহার ০.৪ শতাংশ। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৯ হাজার সদস্য। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুস্থতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশ।

