দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের পথে বাংলাদেশ: ৩০ দিনের মধ্যে বসছে নতুন অধিবেশন



বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্য দিয়ে নতুন সংসদ গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ নিয়ে শুরু হবে সংসদের অধিবেশন—যা এবার প্রথমবারের মতো হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কাঠামোয়।

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রচলিত থাকলেও এবার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে উচ্চকক্ষ। ফলে জাতীয় সংসদ এখন থেকে দুটি কক্ষ নিয়ে পরিচালিত হবে—নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ।

নিম্নকক্ষ হবে মূল আইন প্রণয়নকারী কেন্দ্র। এবারের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন সংসদ সদস্য এতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাদের সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের সদস্য যোগ হয়ে নিম্নকক্ষের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫০ জনে।

এই কক্ষেই উত্থাপিত হবে অধিকাংশ বিল, পাস হবে বাজেট, গঠিত হবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রধানমন্ত্রীও এই কক্ষ থেকেই নির্বাচিত হবেন, কারণ সরকার গঠনের সাংবিধানিক ক্ষমতা নিম্নকক্ষের ওপর নির্ভরশীল।

উচ্চকক্ষের গঠন ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে এখনো বিশদ বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চকক্ষ হবে মূলত পর্যালোচনামূলক প্রতিষ্ঠান—যেখানে নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিলগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে। বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ বা বিশিষ্ট নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে উচ্চকক্ষকে একটি ‘চিন্তাশীল মঞ্চ’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চকক্ষের উদ্দেশ্য হবে আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া বা দলীয় প্রভাব কমিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করা। অনেক গণতান্ত্রিক দেশে যেমন—যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডস বা ভারতের রাজ্যসভা—উচ্চকক্ষ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশেও তেমন একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

গেজেট প্রকাশের পর এখন শুরু হবে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী প্রথম অধিবেশন আহ্বান করবেন। সেই অধিবেশনেই নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে আইন পাসের প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হবে। একটি বিল নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর তা উচ্চকক্ষে যাবে। উচ্চকক্ষ সংশোধনী প্রস্তাব দিতে পারবে বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মতামত জানাবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নিম্নকক্ষের কাছেই থাকবে—এমন একটি কাঠামোর ইঙ্গিত মিলেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।