নতুন মেয়াদ শুরু করলেন এরদোয়ান



গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এরদোয়ান নিজের জামাতা বেরাক আলবাইরাককে তুরস্কের অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
তুরস্কের পার্লামেন্ট দপ্তরে শপথ নেওয়ার পর রাজধানী আঙ্কারায় প্রেসিডেন্টের বাসভবনে উপস্থিত আন্তর্জাতিক নেতা ও কয়েক হাজার অতিথিদের সামনে ভাষণ দেন এরদোয়ান।
ভাষণে ৬৪ বছর বয়সী এ নেতা বলেন, “আমরা, তুর্কি হিসেবে ও তুরস্কের লোক হিসেবে আজ থেকে নতুনভাবে শুরু করছি। আমরা ওই পদ্ধতিকে পেছনে ফেলে আসছি যা অতীতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে আমাদের দেশের অনেক ক্ষতি করেছে।”
এখন থেকে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান, উভয় দায়িত্বই পালন করবেন প্রেসিডেন্ট। তিনি পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন, মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করতে পারবেন।
এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করা তার্কিশ এয়ারলাইন্সের সাবেক নির্বাহী ফোয়াত ওকতাইকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হুলুসে আকাসকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বানিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কভুসগলু অপরিবর্তিত আছেন।
মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী মেহমেত সিমসেক, তাকে এরদোয়ানের আগের সরকারের সবচেয়ে ‘মার্কেট-ফ্রেন্ডলি’ মন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তাকে বাদ দিয়ে জামাতা আলবাইরাককে নতুন অর্থমন্ত্রী করার পরই তুরস্কের অর্থবাজারে একটি ধাক্কা লেগেছে, নেমে গেছে তুর্কি মুদ্রা লিরার মান।
এরদোয়ানের সমর্থকরা তুরস্কের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তনকে এমন এক নেতার জন্য উপহার হিসেবে বিবেচনা করছেন, যিনি জনজীবনে ইসলামি মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়েছেন, ধর্মভীরু শ্রমজীবী শ্রেণীর পাশে থেকেছেন এবং ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।