সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থানে মিসাইল হামলার জেরে ২০২৭ সালে সৌদি আরবে এশিয়ান কাপ ফুটবল আয়োজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত এই মহাদেশীয় টুর্নামেন্টটি বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এক বছর পিছিয়ে ২০২৮ সালে নিয়ে যাওয়ার কথা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।
সৌদি আরবের মাটিতে আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ফুটবল আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। টুর্নামেন্টে এশিয়ার শীর্ষ ২৪টি দল অংশ নেবে। কিন্তু সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীদের বেশ কয়েকটি মিসাইল ও ড্রোন হামলার কারণে দেশটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণের বিষয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। এমন অবস্থায় এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলো তাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ভ্রমণকারী সমর্থকদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
গত ২৩ অক্টোবর জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (জেএফএ) সভাপতি সুনেয়াসু মিয়ামোতো (Tsuneyasu Miyamoto) এই বিষয়ে প্রকাশ্যেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেখানে টুর্নামেন্ট চালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। মিয়ামোতোর ভাষায়, “পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ নয়, তাই নির্ধারিত সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন সহজ হবে না।” সম্প্রতি এএফসির কংগ্রেস চলাকালে জাপানের প্রতিনিধিরা সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার শতভাগ আশ্বাস দিলেও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সংশয় পুরোপুরি কাটেনি।
নিরাপত্তার কারণে ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট সৌদি প্রো লিগের অন্তত তিনটি ম্যাচ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে এত বড় একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা বিশাল এক চ্যালেঞ্জ। এএফসি পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জানা গেছে, এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আগামী নভেম্বরের শেষ দিক পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় প্রয়োজনে আসরটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অবশ্য সৌদি আরবের স্থানীয় আয়োজক কমিটি টুর্নামেন্টটি যথাসময়ে আয়োজনের ব্যাপারে এখনো বেশ আত্মবিশ্বাসী। গত ১৫ অক্টোবর এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে যে, এএফসির সাথে সমন্বয় করে স্টেডিয়ামের অবকাঠামো ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ নির্ধারিত সূচি মেনেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়া সৌদি আরব নিজেদের ক্রীড়া সক্ষমতা প্রমাণে বদ্ধপরিকর। কিন্তু বাইরের দেশগুলোর প্রবল চাপ এবং খেলোয়াড়দের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার বাস্তব নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না।

