পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাবের ত্রাণ কমিশনার নাবিল জাভেদ জানিয়েছেন, বন্যা-দুর্গত এলাকাগুলোতে ৪০০টির বেশি ত্রাণ ও চিকিৎসা শিবির স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, গবাদি পশুদের জন্য ৩৮৫টি পশুচিকিৎসা শিবির খোলা হয়েছে। বন্যার কারণে প্রায় ৮ লাখ গবাদি পশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ) জানিয়েছে, ভারতের হিমাচল প্রদেশ এবং ভারতশাসিত কাশ্মীর থেকে আসা বন্যার পানি পাকিস্তানের দিকে দ্রুত প্রবাহিত হচ্ছে। হিমাচল প্রদেশে শতদ্রু নদীর উজানে দুটি বাঁধ অতিরিক্ত পানিতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বিয়াস ও শতদ্রু নদীতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বিয়াস নদীতে পানির প্রবাহ ১ লাখ কিউসেক ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ৫০,০০০ থেকে ৮০,০০০ কিউসেক পানি পাকিস্তানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, হারিকি হাইড্রলিক স্ট্রাকচারে পানির প্রবাহ বর্তমানে ৩ লাখ কিউসেকে পৌঁছেছে, যা কাসুর জেলার গণ্ডা সিং ওয়ালায় পৌঁছে অতিমাত্রার বন্যা সৃষ্টি করেছে। ভারতশাসিত কাশ্মীরের রাভি নদীর উজানে অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বাঁধ পূর্ণ হয়ে গেছে, এবং সেখান থেকে ১ লাখ কিউসেক পানির ঢল পাকিস্তানে প্রবেশ করছে।
এনডিএমএ সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শতদ্রু, চেনাব, রাভি এবং ঝিলম নদীর পানি মিলিত হয়ে পাঞ্জনাদের আশপাশের এলাকায় (বাহাওয়ালপুর, রাজনপুর এবং মুজাফফরগড়) ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, ৬ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে একটি নিম্নচাপ সিন্ধু প্রদেশে প্রবেশ করে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সৃষ্টি করতে পারে। এতে থরপারকার, সাজাওয়াল, ঠাট্টা, বাদিন এবং মীরপুরখাস জেলায় প্রবল বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
পিডিএমএ জানিয়েছে, রাভি, শতদ্রু এবং চেনাব নদীর পানিতে এ পর্যন্ত ৩,৩০০টির বেশি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৪৩ হলেও, বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, বাড়িঘর ধ্বংস এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি দেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তান সরকার এবং প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ বন্যা-দুর্গতদের জন্য ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে। খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে, ভারত থেকে আসা অতিরিক্ত পানি এবং আসন্ন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্যও পাকিস্তান সরকার আহ্বান জানিয়েছে।

