প্রত্যাবাসন চুক্তির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ



মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে কওরা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে কক্সবাজারের একটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা।
কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের একটি ব্লকে এই বিক্ষোভে একশোর মতো শরণার্থী অংশ নেন। এসময় তারা মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে সেখানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার দাবি জানান।
এই বিক্ষোভের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আনুমানিক শ খানেক লোক সেখানে জড়ো হয়েছে।বিক্ষোভকারীদের সামনে ছিল ইংরেজী লেখা একটি ব্যানার। এতে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। রাখাইনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জানানো হয় এতে।
দাবিগুলো হচ্ছে;
দীর্ঘদিন নাগরিকত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে সরকারি ঘোষণা দিতে হবে। মিয়ানমারের স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর তালিকাতেও রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে হবে।
যে ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে, সেই ভূমি, বাড়িঘর, মসজিদ আর স্কুল তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।
সেনা অভিযানের নামে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে যেসব ‘নিরপরাধ’ রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, তাদের মুক্তি দিতে হবে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং ফেইসবুক পেইজগুলোতে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ছবিসহ যে তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে- তা বন্ধ করতে হবে।
তবে কুতুপালংয়ে স্থানীয় সাংবাদিক এবং রোহিঙ্গাদের অনেকের সাথেই কথা বলে জানা যায় তারা এ বিক্ষোভ সম্পর্কে কিছুই জানেনে না।
এমনকি কুতুপালং এবং টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যারা নেতৃস্থানীয় হিসেবে পরিচিতি তাদের অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেল এ ধরনের বিক্ষোভ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই।
এদিকে জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লী আগামীকাল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শুরু করবেন। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারাও কোন ধরনের বিক্ষোভের কথা অস্বীকার করছেন।

মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর থেকে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসছে। টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ৪ হাজার ৩০০ একর পাহাড় ও পাহাড়ি এলায় তাদের বসতি গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার। আর নতুন-পুরোনো মিলিয়ে এখন শুধু কক্সবাজারেই আছে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা।