প্রথম দিনে সাউথ আফ্রিকার সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৯৮




দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুম। দীর্ঘ নয় বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়া টিম বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ শুরু হচ্ছে এখান থেকেই। এর আগে ২০০২ সালে এই মাঠের অভিষেক টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। মজার ব্যাপার হলো এরপর আর কোনো টেস্ট হয়নি এই মাঠে। দীর্ঘ পনেরো বছর পর বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে আবারো টেস্ট গড়াচ্ছে এ মাঠে।
এই পচেফস্ট্রুমে প্রথম টেস্টে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ দলপতি মুশফিকুর রহিম। কেন টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়া হলো তা এখনো সমর্থকদের কাছে বিস্ময় যেখানে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক কন্ডিশনকে ব্যাটিং করার আদর্শ মেনে ব্যাট হাতেই শুরু করতেন।
সৌম্যকে ছাড়াই একাদশ নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। হাতের গ্লাভস খুলে একজন পুরোদস্তুর ফিল্ডার ও ব্যাটসম্যান হয়েই দেখা যায় অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে। মুশফিকের পরিবর্তে উইকেটের পিছনে দায়িত্ব পালন করেন লিটন দাস। সাকিবের পরিবর্তে সুযোগ পায় মাহমুদুল্লাহ। এমন বেশকিছু পরিবর্তন নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামে টাইগাররা।
বাংলাদেশের ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে ভুল তা প্রমাণিত করেছেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডিন এলগার ও এডেন মারক্রাম। প্রথম সেশন থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের উপর ছড়ি ঘোরাতে থাকে এই দুই ব্যাটসম্যান। মিরাজ, মুস্তাফিজ, তাসকিনরা যেন কিছুতেই কিছু করতে পারছিল না। সাকিবের না থাকা, সাকিবকেই যেন মিস করছিল বাংলাদেশের পুরো বোলিং ইউনিট।
প্রথম সেশনে দুইজন ৯৯ রান তোলে। বিনা উইকেটে ৯৯ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। এলগার তুলে নেন নিজের নবম টেস্ট ফিফটি। লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরেও সেই আগের ধারাতে রান তোলায় মনোযোগী দুই ব্যাটসম্যান। ইতোমধ্যে অভিষেক ম্যাচে নিজের অভিষেক অর্ধশতক তুলে নেন মারক্রাম। দুইজনের ১৯৬ রানের পার্টনারশিপ ভেঙে মিরাজের রান আউটে। শতক থেকে তিন রান দূরে ৯৭ রানে আউট হন মারক্রাম। মারক্রাম না পারলেও চা বিরতির আগে ঠিকই শতক করেন এলগার।
এরপর আর বাংলাদেশী বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে পাঠাতে ব্যর্থ হয়। মিরাজ, মুস্তাফিজ, তাসকিন, শফিউলদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বড় সংগ্রহের পথে স্বাগতিকরা। মোট সাতজন বোলার ব্যবহার করেন মুশফিক। প্রথম দিন শেষে প্রোটিয়াসদের সংগ্ৰহ ১ উইকেট হারিয়ে ২৯৮ রান। হাশিম আমলা ৬৮ রানে ও ডিন এলগার ১২৮ রানে অপরাজিত আছেন।
প্রথম দিন শেষে স্কোর :
দক্ষিণ আফ্রিকা : ২৯৮/১
(এলগার ১২৮* , মারক্রাম ৯৭, আমলা ৬৮*, মুস্তাফিজ ০/৫৪, শফিউল ০/৪৪, মিরাজ ০/১০১, তাসকিন ০/৫২, মাহমুদুল্লাহ ০/১৩৩, মমিনুল ০/১৫, সাব্বির ০/১৫)