ক্রিকেটকে বলা হয় পরিসংখ্যানের খেলা। প্রতিটি বলেই যেন কিছু না কিছু ঘটবে। প্রতিটি রানের রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলট-পালট হবে। ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে এমন অদ্ভুত কিছুর দেখা মিলবে যা সত্যি অবাক করবে। কিছু ইতিহাস হবে আনন্দের, কিছু আবার বেদনার।
আজ আনন্দের গল্প করা যাক। বোলারদের জন্য কোনো ব্যাটসম্যানের উইকেট পাওয়াটা আনন্দের। আবার উইকেট হারিয়ে মুখ ভার করে প্যাভিলিয়নে ফিরে চলেন ব্যাটসম্যানরা। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন কিছু বোলার আছেন, যারা নিজেদের ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছিলেন।
ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে (টেস্ট, ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি) এই কীর্তি গড়েছেন মোট ৬৫ জন। যেখানে স্বীকৃত বোলার ছাড়াও আছেন পার্ট টাইম বোলাররাও!
সবচেয়ে বেশি ১০ জন ক্রিকেটার এই কীর্তি গড়েছেন ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলে। আর সবচেয়ে কম ১ বার করে এমন কীর্তি আছে আয়ারল্যান্ড, হংকং, নেপাল, পাপুয়া নিউগিনিয়া, ওমান, মালেশিয়া ও জার্মানির ক্রিকেটারের।
বাংলাদেশের হয়ে এমন রেকর্ডের মালিক দুজন। তারা হলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও তাইজুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়ান টমাস প্যাট্রিক হোরান প্রথমবারের মতো এমন কীর্তি গড়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান। ১৮৮৩ সালের ২৬ জানুয়ারি সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল হাতে নিয়েই প্রথম বলেই বোল্ড করে ফেরান ওয়াল্টার রিডকে।
টমাস প্যাট্রিক হোরান ছাড়াও টেস্ট ক্রিকেটে এমন কীর্তি আছে আরও ১৯ জনের। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো বোলার এমন কীর্তি গড়তে পারেননি।
টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বলে উইকেট নেওয়া বোলার :
টমাস প্যাট্রিক হোরান (অস্ট্রেলিয়া) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৮৮৩ সালে
আর্থার কেনিংহাম (অস্ট্রেলিয়া) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৮৯৪ সালে
বিল ব্র্যাডলি (ইংল্যান্ড) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ১৮৯৯ সালে
টেড আরনল্ড (ইংল্যান্ড) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ১৯০৩ সালে
বার্ট ভোগলার (দক্ষিণ আফ্রিকা) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৯০৬ সালে
জ্যাক ক্রাফোর্ড (ইংল্যান্ড) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ১৯০৬ সালে
জর্জ ম্যাকোলে (ইংল্যান্ড) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ১৯২৩ সালে
মরিস টেট (ইংল্যান্ড) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ১৯২৪ সালে
ম্যাট হেন্ডারসন (নিউজিল্যান্ড) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৯৩০ সালে
ডেনিশ স্মিথ (নিউজিল্যান্ড) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৯৩০ সালে
টায়রেল জনসন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৯৩৯ সালে
ডিক হাওরথ (ইংল্যান্ড) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ১৯৪৭ সালে
ইন্তিখাব আলম (পাকিস্তান) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ১৯৫৯ সালে
রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ (ইংল্যান্ড) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ১৯৯১ সালে
নীলেশ কুলকারনী (ভারত) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ১৯৯৭ সালে
চামিলা গেমেজ (শ্রীলঙ্কা), বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০০২ সালে
নাথান লায়ন (অস্ট্রেলিয়া) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ২০১১ সালে
শামিন্দা ইরাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ২০১১ সালে
ডেন পাইড (দক্ষিণ আফ্রিকা) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০১৪ সালে
হার্ডুস ভিলজোয়েন (দক্ষিণ আফ্রিকা) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৬ সালে
ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজদের প্রথম বলেই উইকেট শিকার করা বোলারের সংখ্যা ২৬। যার মধ্যে একজন বাংলাদেশি উজ্জ্বল হয়ে আছেন। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে প্রথম বলেই আফগানিস্তান ব্যাটসম্যান হাশমতউল্লাহ শহীদিকে ফিরিয়ে এ কীর্তি গড়েন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গ্রায়েম ওয়াটসনকে নিজের প্রথম বলেই বোল্ড করার মাধ্যমে ইতিহাসে নাম লেখান জিওফ আর্নল্ড। সবশেষ গতবছর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই রেকর্ডে নিজের নাম লেখান জিম্বাবুয়ের অ্যাইন্সলে লোভু।
ওডিআই ক্রিকেটে প্রথম বলে উইকেট নেওয়া বোলার :
জিওফ আর্নল্ড (ইংল্যান্ড) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ১৯৭২ সালে
ক্লাইভ লয়েড (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৯৭৩ সালে
শহীদ মাহবুব (পাকিস্তান) ভারতের বিপক্ষে, ১৯৮২ সালে
শন থমসন (নিউজিল্যান্ড) ভারতের বিপক্ষে, ১৯৯০ সালে
ইনজামাম উল হক (পাকিস্তান) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ১৯৯১ সালে
এভারটন মাতাম্বানাদজো (জিম্বাবুয়ে) পাকিস্তানের বিপক্ষে, ১৯৯৬ সালে
সদাগোপ্পান রমেশ (ভারত) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ১৯৯৯ সালে
ওয়াভেল হাইন্ডস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ভারতের বিপক্ষে, ১৯৯৯ সালে
জোসেপাত আবাবু (কেনিয়া) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ১৯৯৯ সালে
চারিথা বুদ্ধিকা (শ্রীলঙ্কা) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০০১ সালে
মার্টিন ভ্যান জার্সওয়েল্ড (দক্ষিণ আফ্রিকা) বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০০২ সালে
মনডে জোন্ডেকি (দক্ষিণ আফ্রিকা) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ২০০২ সালে
কুশল লোকুয়ারাচ্ছি (শ্রীলঙ্কা) কেনিয়ার বিপক্ষে, ২০০৩ সালে
রিকি ক্লার্ক (ইংল্যান্ড) পাকিস্তানের বিপক্ষে, ২০০৩ সালে
ফিদেল এডওয়ার্ডস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০০৩ সালে
কেভিন ও’ব্রায়েন (আয়ারল্যান্ড) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০০৬ সালে
এলিয়াহ ওটিয়ানো (কেনিয়া) কানাডার বিপক্ষে, ২০০৭ সালে
থিলান থুশারা (শ্রীলঙ্কা) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ২০০৮ সালে
পার্থ দেশাই (কানাডা) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ২০১০ সালে
ভুবেনেশ্বর কুমার (ভারত) পাকিস্তানের বিপক্ষে, ২০১২ সালে
কেনেথ কাম্যুকা (কানাডা) নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, ২০১৩ সালে
অ্যান্ড্রু ম্যাথিশন (নিউজিল্যান্ড) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৫ সালে
এহসান খান (হংকং) স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৬ সালে
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (বাংলাদেশ) আফগানিস্তানের বিপক্ষে, ২০১৬ সালে
কিমো পল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) আফগানিস্তানের বিপক্ষে, ২০১৮ সালে
অ্যাইন্সলেলে লোভু (জিম্বাবুয়ে) নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, ২০১৯ সালে
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে মোট ১৯ জন বোলার এই কীর্তি গড়েছেন। টি-টয়েন্টিতে প্রথমবার এমন কিছুর দেখা পান অজি পেসার মাইকেল ক্যাসপ্রোভিচ। ২০০৫ সালে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে প্রথম বলেই ফেরান কিউই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান স্টিভেন ফ্লেমিংকে।
তালিকায় আছে বাংলাদেশি তাইজুল ইসলামের নাম, একমাত্র বাংলাদেশি বলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে এই কীর্তি বাঁহাতি এই স্পিনারের। গতবছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের প্রথম বলেই ব্রেন্ডন টেইলরকে ফিরিয়ে প্রথম ও এখনো পর্যন্ত একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বলেই উইকেট শিকারি বোলার বনে যান।
এই তালিকায় আছেন ভিরাট কোহলিও। ২০১১ সালে ট্রেন্টব্রিজে ইংলিশ ব্যাটসম্যান কেভিন পিটারসেনকে ফিরিয়ে খন্ডকালীন বোলার হিসেবে আক্রমণে এসেই রেকর্ডে নাম লিখিয়ে নেন।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম বলে উইকেট নেওয়া বোলার :
মাইকেল ক্যাসপ্রোভিচ (অস্ট্রেলিয়া) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০০৫ সালে
অজিত আগারকার (ভারত) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ২০০৬ সালে
আলফোনসো টমাস (দক্ষিণ আফ্রিকা) পাকিস্তানের বিপক্ষে, ২০০৭ সালে
শন টেইট (অস্ট্রেলিয়া) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০০৭ সালে
ররি ক্লেইনভেল্ট (দক্ষিণ আফ্রিকা) বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০০৮ সালে
জো ডেনলি (ইংল্যান্ড) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ২০০৯ সালে
প্রজ্ঞান ওজা (ভারত) বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০০৯ সালে
ভিরাট কোহলি (ভারত) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১১ সালে
নাদিম আহমেদ (হংকং) নেপালের বিপক্ষে, ২০১৪ সালে
পরশ খাড়কা (নেপাল) হংকংয়ের বিপক্ষে, ২০১৪ সালে
উইলি গাভেরা (পাপুয়া নিউগিনি), আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৫ সালে
অজয় লালচীতা (ওমান) হংকংয়ের বিপক্ষে, ২০১৫ সালে
আমির ইয়েমিন (পাকিস্তান) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৫ সালে
লকি ফার্গুসন (নিউজিল্যান্ড) বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০১৭ সালে
লাকসান সান্দাকান (শ্রীলঙ্কা) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ২০১৭ সালে
তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০১৯ সালে
লুইস গ্রেগরি (ইংল্যান্ড) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৯ সালে
খিজাত হায়াত (মালয়েশিয়া) হংকংয়ের বিপক্ষে, ২০২০ সালে
ডিয়েটার ক্লিন (জার্মানি) স্পেনের বিপক্ষে, ২০২০ সালে

